The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ডিটিএইচ সেবা: ডিজিটাল যুগের নতুন পথ প্রদর্শক হবে

স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সংযোগ পদ্ধতি আধুনিকায়ন না হওয়ার কারণে একদিকে গ্রাহকরা মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছে না অপরদিকে আধুনিক ও স্মার্ট টিভির সত্যিকারের স্বাদ এবং অভিজ্ঞতাও গ্রাহকরা পাচ্ছে না

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দেশের সব অঙ্গনেই লেগেছে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া। সেইসঙ্গে বাড়ছে তারহীন প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ডিটিএইচ সেবা হবে ডিজিটাল যুগের নতুন পথ প্রদর্শক।

ডিটিএইচ সেবা: ডিজিটাল যুগের নতুন পথ প্রদর্শক হবে 1

ঘরোয়া বিনোদনের প্রধানতম মাধ্যম স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সংযোগ এখনও রয়ে গেছে তিন দশক পুরনো ক্যাবল নেটওয়ার্কের অধীনেই। যে কারণে দর্শকরা অনেক চ্যানেল দেখা হতে বঞ্চিততো হচ্ছেন। পাশাপাশি যা দেখছেন তাও মানসম্পন্ন ছবি এবং শব্দবিশিষ্ট নয়।

গত দুই দশকে নেটওয়ার্ক ও টিভি সেট প্রযুক্তিতেও এসেছে অনেকগুলো বড় পরিবর্তন। প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ সারাবিশে ডিটিএইচ প্রযুক্তি টিভি দেখার অভিজ্ঞতাকেই যেনো বদলে দিয়েছে। সেইসঙ্গে তারবিহীন এই প্রযুক্তি মুক্তি দিয়েছে ডিশের তারের জঞ্জাল হতেও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সংযোগ পদ্ধতি আধুনিকায়ন না হওয়ার কারণে একদিকে গ্রাহকরা মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছে না অপরদিকে আধুনিক ও স্মার্ট টিভির সত্যিকারের স্বাদ এবং অভিজ্ঞতাও গ্রাহকরা পাচ্ছে না। আবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের তার চরসহ শহরের বাইরে প্রত্যন্ত-বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে বিপুল জনগোষ্ঠী স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল দেখতে পারছেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে এখনও মানুষের বিনোদন ও তথ্য পাওয়ার প্রধানতম মাধ্যম হলো টেলিভিশন। স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো সেই চাহিদা পূরণ করছে অনেক দিন থেকে। ১৯৯২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন সংবাদ চ্যানেল সিএনএন বিটিভির চ্যানেল ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রতিদিন কয়েক ঘন্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছিলো। একই বছর বিবিসিও সেটি শুরু করে। এরপর বেসরকারি পর্যায়ে ১৯৯৭ সালে এটিএন বাংলা স্যাটেলাইট টিভি সম্প্রচার শুরু করে। ১৯৯৯ সালে চ্যানেল আই ও ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে একুশে টেলিভিশন (ইটিভি)। বর্তমানে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশী কয়েকশ’ চ্যানেল সম্প্রচারিত হয়ে আসছে।

২০১২ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, ২০১১ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার পরিবারে টেলিভিশন ছিল। তারপর গত ৮ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির ধারায় টিভির সংখ্যাও ব্যাপক হারে বেড়েছে। আবার টিভি থাকা সিংহভাগ পরিবারেই ডিশ সংযোগ রয়েছে। ক্যাবল অপারেটররা বলছেন যে, দেশে ডিশ সংযোগের গ্রাহক রয়েছে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ। তবে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সংখ্যা ৩ কোটিরও বেশি।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, ডিশ অপারেটররা গ্রাহক সংখ্যা কম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। ডিজিটালাইজড বা ডিটিএইচ সেবায় প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা জানা যাবে। যে কারণে এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির পথও বন্ধ করা যাবে।

ডিশ সংযোগের তার বিদ্যুতের খুঁটিকে আশ্রয় করে ছড়িয়ে পড়ায় বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিশের তার মনে করে বিদ্যুতের তারে হাত দিয়ে দুর্ঘটনার তথ্যও কম নয়। ঝুলন্ত তার সড়ক-মহাসড়ক-গলির রাস্তায় জঞ্জাল তৈরি করেছে বিভিন্ন স্থানে। যা শহর বা গ্রামের সৌন্দর্য্যও নষ্ট করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অপরদিকে গত প্রায় ৩ দশকে টিভি সেটের প্রযুক্তিতে এসেছে ব্যাপক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সিআরটি টিভি অনেকটাই বাতিল হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। এলসিডি, এলইডি, ওএলইডি, ইউএলইডিসহ এসেছে স্মার্ট টিভির নানা সংস্করণ হিসেবে। আধুনিক টিভি সেটগুলো অনেক ফিচার-বৈশিষ্ট্য ক্যাবল লাইনের সংযোগ দিয়ে উপভোগ করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ গ্রাহক টাকা দিয়ে টিভিসেট কিনেও সংযোগ প্রযুক্তির আধুনিকায়ন না হওয়ার কারণে তার পুরো ব্যবহার করতে পারছেন না। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০০৩ সালে তারবিহীন উন্নত প্রযুক্তির ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সেবা চালু রয়েছে অব্যাহতভাবে। যে কারণে টিভি দেখার দারুণ অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন ওইসব দেশের জনগণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের সুবিধা-ফিচার সর্বোচ্চ উপভোগ করার জন্য ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। খুব শীঘ্রই প্রচলিত ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের স্থান দখল করে নিবে তারহীন এই প্রযুক্তি।

Loading...