The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

প্রতিনিয়ত পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টিতত্ত্ব উন্মোচন হচ্ছে

ফরাসী বিজ্ঞানী লাপ্লাসের মতের নাম হলো নীহারিকাবাদ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীটাই যেনো এক রহস্য। সেই রহস্যময় পৃথিবীর নানা রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য উপাত্ত দিয়ে আমাদেরকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন!

প্রতিনিয়ত পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টিতত্ত্ব উন্মোচন হচ্ছে 1

আমরা যদি অন্ধকার রাতে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকায় তাহলে ছোট বড় অসংখ্য তারা দেখতে পাবো। কিন্তু তারা বললেও এগুলোর সবই তারা নয়। এইসব আলোর ফুটকির কোনো কোনোটা আবার গ্রহ। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এমন এক সময় ছিল যখন আমাদের এই পৃথিবীটা একেবারে ছিলই না। তাহলে কীভাবে পৃথিবীর সৃষ্টি হলো? তা নিয়ে মানুষের মনে নানা রকম প্রশ্নের শেষ নেই। এই যুগের বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য হতে উৎক্ষিপ্ত অনন্ত মহাকাশে ঘূর্ণ্যায়মান একটা মস্ত বড় আগুনের গোলা ক্রমে ক্রমেই ঠাণ্ডা হয়ে জমে গিয়ে এই পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান অবস্থায় আসতে পৃথিবীকে কোটি কোটি বছর ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

ফরাসী বিজ্ঞানী লাপ্লাসের মতের নাম হলো নীহারিকাবাদ। লাপ্লাস বলেন, এক ঘূর্ণ্যায়মান নীহারিকার একটি অংশ সূর্য এক জ্বলন্ত গ্যাসের গোলার মতোই। প্রচণ্ড বেগে ঘুরপাক খাওয়ার চোটে তার ধারের অংশ খসে গিয়ে পৃথিবী এবং অন্যান্য উপগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। লাপ্লাসের এই মতবাদ কিছুকাল ধরে সত্য বলে প্রচলিত থাকলেও এই মতেরও ত্রুটি ধরা পড়লো অনেককাল পর। ইংরেজ বিজ্ঞানী জেমস জীনস ও হ্যারল্ড জেফ্রিস বললেন যে, আমাদের সূর্যের চেয়ে কোটি কোটি গুণ বড় একটি বিরাট তারা মহাশূন্যে হঠাৎ করেই সূর্যের খুব কাছাকাছি এসে পড়েছিলো। সেটা যখন সূর্যের পাশ দিয়ে প্রচণ্ডবেগে ছুটে যাচ্ছিল ঠিক তখন তার টানে সূর্যের গায়ে বিরাট জোয়ার তুলেছিলো। তারাটির টানে সূর্য হতে কিছুটা অংশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে। বিচ্ছিন্ন অংশটিই একদিকে সূর্য, অপরদিকে তারাটির টানে খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়। এরকম একটি খণ্ড থেকেই এই পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এই মতেরও খুঁত বের করলেন অন্য সব বিজ্ঞানীরা। তারা বললেন যে, এই মত যদি মানা যায় তাহলে গ্রহগুলোর তো সূর্যের কাছে কাছে থাকার কথা ছিলো; তবে তা তো হয়নি। গ্রহগুলো তো বহু দূরে দূরে ছড়িয়ে রয়েছে! জীনস এবং জেফ্রিসের মতবাদকে বলে জোয়ারী মত। বিজ্ঞানী হয়েল তার মতামত প্রকাশ করলেন। তিনি বললেন, মহাশূন্যের দিকে তাকালে অনেক যুগ্ম-নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়। পূর্বে সূর্য ও একটা নক্ষত্র এইরকম যুগ্ম অবস্থায় ছিলো। কল্পনাতীত প্রচণ্ডবেগে আবর্তনের কারণে বহু কোটি বৎসর পূর্বে নক্ষত্রটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। যে কারণে নক্ষত্রটার কতোক অংশ থেকে যায়, বাকি অংশ বহু শত কোটি মাইল দূরে গিয়ে পড়েছিলো। সূর্যের অংশ এবং সেই নক্ষত্রের অংশ থেকে আমাদের সৌরজগতের গ্রহ ও উপগ্রহগুলির সৃষ্টি হয়। মূলত এই মতবাদকেই বলা হয় ‘যুগ্মতারকাবাদ’। বিজ্ঞানীরা এই মতটাকে পুরোপুরি সমর্থন না করলেও কখনও অগ্রাহ্য করেননি। অবশ্য সৃষ্টিতত্ত্ব এখনও পুরোপুরি রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করার জন্য। তারা নিরলসভাবে তাদের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাইতো আমরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো পৃথিবী সৃষ্টির তথ্য পেয়ে আসছি।

Loading...