The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বাবা দিবস এলো যেভাবে

১৯০৯ সালে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারী বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমরা সবাই জানি আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বাবা দিবস তো আমরা পালন করি কিন্তু এই বাবা দিবস কিভাবে এলো? বা এই দিবসটির পেছনের গল্প কী জানি?

বাবা দিবস এলো যেভাবে 1

এই তথ্যটি খুব একটা আনন্দের নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে সংগ্রামের একটি গল্প। একশ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসার গল্পটা সত্যিই এক বেদনা দায়ক।

বিশ্ব মা দিবস প্রথম পালিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে। সেই তুলনায় বাবা দিবসের বয়স খুবই কম বলা যায়। আমেরিকাতে মা দিবসকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পাল শুরু হয় ১৯১৪ সাল হতে। মা দিবস যতোটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে বাবা দিবসের এক্ষেত্রে একটু সময়ই লেগে গেছে বলা যায়।

১৯০৮ সালের কথা। পশ্চিম ভারজিনিয়ার এক গীর্জায় একটি স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। এর ঠিক আগের বছরই একটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিল ৩৬২ কয়লা শ্রমিক। তাদেরকে সম্মান জানাতে সন্তানরা মিলে এক প্রার্থনা সভার আয়োজন করে। সেটিই ছিল বাবাকে সম্মান জানাতে ইতিহাসের প্রথম আয়োজন। ইতিহাস অন্তত এমনটিই বলছে। যদিও বাবা দিবসের সঙ্গে এর তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে ঠিক এর পরের বছর ১৯০৯ সালে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারী বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ওই নারী ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালো বাসতেন। তাদের মা ছিলনা। তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবাই। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো মা দিবসের এতো আয়োজন হলে বাবা দিবস কেনো বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা প্রয়োজন।

অনেক চেষ্টা তদবির করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বের প্রথম বারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস।

শুরুটা ওয়াশিংটনে হলেও ধীরে ধীরে এক রাজ্য হতে আরেক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আস্তে আস্তে মা দিবসের পাশাপাশি বাবা দিবসের প্রতিও সচেতন হতে থাকেন বিশ্বের সন্তানরা। দীর্ঘ ৬ দশক পর পাওয়া যায় বাবা দিবসের স্বীকৃতি। ১৯৭২ সালে তখনকার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সন একটি আইনে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে বাবা দিবসকে জাতীয় মর্যাদা দেন।

তবে এর মাঝে বেশ কিছু আন্দোলনও হয়ে গেছে মা দিবস ও বাবা দিবস একসঙ্গে করে প্যারেন্ট ডে পালনের জন্য। তবে বেশিরভাগ মানুষ পৃথক পৃথক দিন পালনেই রত থাকলো। অবশ্য কেও কেও এটিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ধান্ধা বলতেও কার্পণ্য করেনি তখন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বাবা দিবসটি ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালন করা হয়ে তাকে। বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাবা দিবস পালিত হচ্ছে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার। দক্ষিণ আমেরিকায় এটি পালিত হয় ১৯ মার্চ। অপরদিকে অস্ট্রেলিয়া এবং ফিজিতে পালন করা হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রবিবার। এভাবেই বাবা দিবস পালন হয়ে আসছে। এবার জুনের তৃতীয় রবিবার হলো আজ ১৬ জুন। আজ পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। ফেসবুক খুললেই এর প্রমাণ মিলছে।

Loading...