The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এমন এক শহর যে শহরে মসজিদ নিষিদ্ধ!

শহরের একদল মুসলিম বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছেন। তারা সেখানে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণাও চালাচ্ছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইথিওপিয়ার একটি শহরের নাম হলো আকসুম। সেখানে প্রায় ৭৩ হাজার মানুষের বসবাস। এরমধ্যে ১০ শতাংশই হচ্ছে মুসলিম। তবে এই শহরে নেই কোনো স্থায়ী মসজিদ। কারণ এখানে মসজিদ স্থাপন নিষিদ্ধ।

এমন এক শহর যে শহরে মসজিদ নিষিদ্ধ! 1

তবে শহরের একদল মুসলিম বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছেন। তারা সেখানে মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচারণাও চালাচ্ছেন। যদিও খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতারা সেটি প্রত্যাখ্যান করে বরেছেন এর চেয়ে বরং মৃত্যুই তাদের কাছে নাকি শ্রেয়!

এই বিষয়ে খ্রিষ্টানদের সিনিয়র ধর্মীয় নেতা গডেফা মেরহা বলেছেন, আকসুম হলো তাদের কাছে মক্কা শরীফের মতো। তাদের বিশ্বাস ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে যেমন গির্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ঠিক তেমনি আকসুমেও কোনো মসজিদ থাকতে পারবে না।

ধর্মীয় নেতা গডেফা মেরহা বলেছেন, ‘আকসুম একটি পবিত্র স্থান; সিটি অব মনেস্ট্রি। এখানে কেও যদি মসজিদ নির্মাণ করতে আসেন তাহলে আমরা মরে যাবো। কখনই এটা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের জীবদ্দশায় এটি আমরা অনুমোদন করবো না।’

অবশ্য ‘জাস্টিস ফর আকসুম মুসলিম’ এর ব্যানারে একদল স্থানীয় মুসলিম সেখানে মসজিদ নির্মাণের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, মসজিদ নির্মাণ এবং প্রার্থনার সুযোগ পাওয়া তাদের নৈতিক অধিকার। তাদের এই তৎপরতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন সেখানকার অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরাও।

যদিও সেখানকার অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, এই বিতর্ক একেবারেই অর্থহীন। কারণ প্রাচীন এই শহরটি অনাদিকাল হতেই ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য সুপরিচিত।

ধর্ম দুটির অনুসারীদের ধারণা মতে, ইসলামের সূচনালগ্নে মক্কায় অমুসলিম শাসকদের অত্যাচারে পালিয়ে প্রথম মুসলিমরা এসেছিল এই শহরটিতে। তৎকালীন খ্রিষ্টান রাজা সেই সময় তাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। মূলত আরব উপত্যকার বাইরে এটিই ছিল মুসলিমদের প্রথম কোনো উপস্থিতি।

এখন আকসুমের ৭৩ হাজার অধিবাসীর শতকরা ৮৫ ভাগ অর্থোডক্স খ্রিষ্টান, ১০ ভাগ মুসলিম ও বাকি ৫ ভাগ খ্রিষ্টান ধর্মের অন্য ধারার অনুসারী বলে জানা গেছে।

শহরের ৪০ বছর বয়সী আব্দু মোহাম্মদ আলী নামে জনৈক মুসলিম সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, তারা কয়েক প্রজন্ম ধরেই খ্রিষ্টানদের একটি বাড়ি প্রার্থনার জন্য ব্যবহার করে আসছেন।

মোহাম্মদ আলী বলেন, শহরে আমাদের ১৩টি অস্থায়ী মসজিদ রয়েছে। শুক্রবার আমরা মাইক ব্যবহার করলেও তারা বলে আমরা সেন্ট ম্যারিকে অসম্মান করছি।

স্থানীয় চিকিৎসক আজিজ মোহাম্মদ প্রায় ২০ বছর ধরে আকসুমে বসবাস করছেন। মসজিদ না থাকায় অনেক মুসলিম খোলা জায়গায় প্রার্থনা করতে বাধ্য হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা মুসলিম এবং খ্রিষ্টান সবাই একই সঙ্গে বসবাস করি। খ্রিষ্টানরা কোনো রকম বাধা দেয় না। তবে বহু বছর ধরেই আমরা রাস্তায় নামাজ পড়ছি, আমাদের একটি মসজিদ প্রয়োজন।’

প্রায় ৫০ বছর পূর্বে যখন ইথিওপিয়ায় সম্রাট হাইল সেলেসি ক্ষমতায় ছিলেন তখন আকসুমেও একই রকম মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিলো। সেই সময় রাজ পরিবারের সদস্য এবং শহরের তৎকালীন প্রধান একটি সমঝোতাও করে দেন।যে কারণে মুসলমানরা ভুকিরো-মারে শহর হতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

ওই শহরে মুসলিমদের জন্য রান্নার কাজ করেন কেরিয়া মেসুদ। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘মসজিদের জন্য আমরা জোর করতে পারি না। কারণ আমাদের শান্তিতে থাকতে হবে।’

এই বিষয়ে খ্রিষ্টান নেতা গডেফা মেরহা বলেন, আকসুমে উভয় ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছেন। উভয় সম্প্রদায় নবী ইব্রাহিম (আ.) সম্পর্কে কিছু কিছু ক্ষেত্রে একই বিশ্বাসও পোষণ করেন।

গডেফা মেরহা আরও বলেন, তার বেস্ট ফ্রেন্ডই হলো একজন মুসলিম। তারা একসঙ্গেই বিয়ে, শেষকৃত্যের মতো নানা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। তার ধারণা আকসুমে মসজিদ বানানোর এই প্রচারণার পেছনে ইথিওপিয়ার অন্য অঞ্চলের মুসলিমরা রয়েছেন। তবে অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা শহরের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সেটি হতে দেবে না।

এদিকে অনেকেরই আশা সম্রাট হেইলি সেলাসিসের সরকার এই বিষয়ে একটি সমঝোতা তৈরি করতে সমর্থ হবেন। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবিই আহমেদের বাবা একজন মুসলিম ও মা ছিলেন খ্রিষ্টান।

এই বিষয়ে রিজিওনাল কাউন্সিল অব মুসলিম বলছে যে, তারা খ্রিষ্টানদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন। কাউন্সিল কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাহসে বলেন, আশা করি খ্রিষ্টানরা মসজিদ নির্মাণে আমাদেরকে সহায়তা করবেন।

Loading...