The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

৪ স্থানে এরশাদের জানাজা: এরশাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

আজ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার কারণে হেলিকপ্টারে তার লাশ রংপুরে নেওয়া সম্ভব হয়নি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আর নেই। ঢাকা সিএমএইচে ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (রবিবার) সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

৪ স্থানে এরশাদের জানাজা: এরশাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী 1

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা সেনানিবাসে কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর।

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আগামীকাল (সোমবার) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা এবং বাদ আছর বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণে তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর হেলিকপ্টারযোগে এরশাদের মরদেহ নেওয়া হবে তার নিজ বাড়ি রংপুরে। রংপুরে জানাজা শেষে এরশাদকে আবার ঢাকায় এনে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। আজ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার কারণে হেলিকপ্টারে তার লাশ রংপুরে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

এরশাদের বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় এরশাদ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মকবুল হোসেন ও মা মজিদা খাতুনের ৪ ছেলে এবং ৫ মেয়ের মধ্যে এরশাদ ছিলেন দ্বিতীয়। অবশ্য ভাইদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন এরশাদ। বাবা-মা আদর করে পেয়ারা নামে ডাকতেন তাঁকে।

হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের স্কুল এবং কলেজ জীবন কেটেছে রংপুর শহরে। ১৯৪৬ সালে দিনহাটা হাইস্কুল হতে ম্যাট্রিকুলেশন করেন তিনি। তারপর ভর্তি হন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। সেখানে পড়ার সময় মনোযোগ দেন লেখালেখির দিকেও। তিনি ছিলেন কলেজ ছাত্রসংসদরে সাহিত্য সম্পাদক।

বাবা মকবুল হোসেন ছিলেন নামকরা একজন আইনজীবী। এরশাদেরও ইচ্ছা ছিল বাবার মতোই বড় আইনজীবী হবার। তিনি ১৯৫০ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন। তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাত্র ২শ টাকা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন এরশাদ। বাবার ওপর চাপ কমানোর জন্য নিজেই শুরু করেন টিউশনি। বাবার মতো বড় আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ ক্লাসে পড়ার পাশাপাশি ভর্তি হন ল কলেজেও।

১৯৪৮ সালে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ কারমাইকেল কলেজের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হবার গৌরব অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়েরও ক্রীড়া দলের তিনি ছিলেন একজন কৃতি খেলোয়াড়। ১৯৫৩ থেকে ৫৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা অঞ্চলের ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন এরশাদ। ১৯৫২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে এরশাদ কমিশন লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধেও অংশ নেন এরশাদ। সেনা কর্মকর্তা হিসেবে এরশাদ প্রথম নিয়োগ পেয়েছিলেন ২ নম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। তিনি ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের কোয়েটে স্টাফ কলেজ হতে স্টাফ কোর্স সমাপ্ত করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে শিয়ালকোটে ৫৪ ব্রিগেডের ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট অ্যাডজুট্যান্ট এবং কোয়াটার মাস্টার জেনারেল ব্রিগেড মেজর ছিলেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। ১৯৭৩ সালে ১২ ডিসেম্বর হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সরকার উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের দিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে পাঠায় তাঁকে। সেখানে প্রশিক্ষণকালিন সময় তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে উন্নীত হন। ওই বছরই আগস্ট মাসে আবার পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল হন এরশাদ। ১৯৭৮ সালের ১ ডিসেম্বর হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭৯ সালের ৭ নভেম্বর এরশাদকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। ১৯৮০ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর সেনা বিদ্রোহ দমন করেন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ।

১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ দেশে সামরিক আইন জারি করেন এরশাদ। এরপর ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি গঠন করেন। তিনি একটানা ৯ বছর দেশ শাসন করেন।

১৯৮২ সালে ঘোষিত নতুন শিল্পনীতিকে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগের জন্য আরও উদার করে এরশাদ ১৯৮৬ সালে আরেকটি নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেন। বিশেষত উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার কারণে এরশাদের অনুসারীরা তাঁকে ‘পল্লীবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করেছিলেন।

১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। ১৯৯১ সালে তাঁকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। ৬ বছর কারান্তরীণ থাকার পর ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসে জামিনে মুক্ত হন এরশাদ। জেলে থাকা অবস্থায় দুটি সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবারই ৫টি করে আসনে জয়লাভ করেন তিনি। তবে আদালতের রায়ে দণ্ডিত থাকায় বাতিল হয়ে যায় তার সংসদ সদস্য পদ।

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সামনে উঠে আসে জাতীয় পার্টি। তবে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত। তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদে বিরোধী দলে স্থান পায় জাতীয় পার্টি। এরশাদ হন বিরোধী দলের নেতা।

Loading...