The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান এই গায়িকা! কিন্তু কেনো?

এমন একটি করার জন্য তিনি স্বামী-সন্তানকেও অভ্যন্ত করেছেন! গত তিন মাস ধরে চলছে তাদের এই চর্চাটি!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ব্যাপারটি অনেকটা হাস্যকরও বটে। মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ঘুমানো! কিন্তু কেনো? তবে এই কাজটিই করে যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার একজন জনপ্রিয় গায়িকা!

মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান এই গায়িকা! কিন্তু কেনো? 1

শুধু নিজেই নন, এমন একটি করার জন্য তিনি স্বামী-সন্তানকেও অভ্যন্ত করেছেন! গত তিন মাস ধরে চলছে তাদের এই চর্চাটি!

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ঘুমাতে যাওয়া ওই গায়িকার নাম হলো এনদিয়েন। সম্প্রতি ঘুমানোর এই পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টও করেছেন এই গায়িকা। জনপ্রিয় এই গায়িকার পোস্ট নিয়ে নেট দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়।

এনদিয়েন জানিয়েছেন, তারা ঘুমানোর সময় নিয়মিত যে জিনিসটি অনুশীলন করছেন এর নাম হলো বুতেইকো। গত তিন মাস ধরে ব্যতিক্রমী এই কাজটি করে আসছেন তারা। ঘুমানোর সময় মুখে স্কচটেপ দিয়ে রাখার অর্থই হলো নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া।

এনদিয়েন দাবি করেছেন যে, এভাবে ঘুমানোর কারণে তার ঘুম নাকি আগের চেয়েও অনেক ভালো হয়। এছাড়া মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ঘুমালে গলা শুকায় না। আবার মুখ থেকেও দুর্গন্ধও বের হয় না। সব মিলিয়ে তিনি এটাকে বেশ উপকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই বিষয়ে চিকিৎসকরা বলেছেন, যতোটা উপকারী বলা হচ্ছে এটি আসলে ততোটা উপকারী নয়। মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ঘুমানো খুবই বিপজ্জনক একটি বিষয়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য অবশ্যই। তাদের যেকোনো কারণে নাকে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যাও হতে পারে। তখন মুখ টেপ দিয়ে বন্ধ থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

বুতেইকো আসলে কী?

বলা হয়েছে, বুতেইকো পদ্ধতি ১৯৫০ সালে প্রথম মানুষের সামনে নিয়ে আসেন কোনস্টানটিন পেভলোভিচ বোতেইকো নামে এক সোভিয়েত চিকিৎসক। তিনি অ্যাজমার চিকিৎসায় শ্বাসপ্রশ্বাসভিত্তিক এই পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন তিনি। তার নামেই এটির নামকরণ করা হয়েছিলো।

আন্তর্জাতিক বুতেইকো ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক ম্যাককেউন জানিয়েছেন, ঘুমের সমস্যা বিশেষ করে অ্যাপনিয়া, যাতে ঘুমের সময় মানুষের শ্বাসনালিতে নি:শ্বাস আটকে যায় এবং ঘুমের সমস্যা হয়, নাক ডাকা শুরু হয়- এসব সমস্যায় বুতেইকো খুব কার্যকর।

চিকিৎসকরা যা বলেন

এই পদ্ধতির ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন অন্যান্য চিকিৎসকরা। মিশিগানের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ক্যাথলিন ইয়ারেমচাক বলেছেন, ‘যে কোনো ব্যক্তিই হোক না কেনো কেবল নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে পারছেন কি না, সেটি আগে দেখতে হবে। বেশিরভাগ মানুষই নাক দিয়ে শ্বাসকার্য চালাতে অসুবিধা না হলে, নিজ থেকে কখনও মুখ খোলে না, মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালানোর অর্থই হলো, তাদের নাকে সমস্যা রয়েছে।’ এমন ক্ষেত্রে মুখ বন্ধ রাখলেই নাকের সমস্যা দূর হবে না বলেও জানান এই চিকিৎসক।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...