The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নিজেকে যেভাবে শান্ত রাখবেন

আমরা আমাদেরকে সম্প্রতি এতো তীব্রতর করে ফেলেছি যে কোন কিছুতেই হুট করে রেগে যাচ্ছি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অস্থিরতা কথায় কথায় নিজেকে অন্যের সাথে তর্কে জরিয়ে ফেলা এ সকল কাজে আমরা নিজেদের ব্যস্ত করে ফেলি খুব সহজেই। যার ফলে আমাদের মাঝে দেখা দেয় নানা জটিলতা। নিজেকে কিভাবে শান্ত রাখবেন আজ জেনে নিন সেই বিষয়টি।

নিজেকে যেভাবে শান্ত রাখবেন 1

আমরা আমাদেরকে সম্প্রতি এতো তীব্রতর করে ফেলেছি যে কোন কিছুতেই হুট করে রেগে যাচ্ছি। আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া সকল ছোট ছোট ব্যপারে নিজেদেরকে উত্তেজিত করে তুলছি। সামান্য ঘটনাতেও কোন জাচাই বাছাই না করে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি। আমাদের মনের এমন উত্তেজনা আর প্রতিক্রিয়ার জন্য আমরা কখনো বেছে নিচ্ছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অথবা সামান্য কথায় নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলছি অন্যের সাথে তর্কে বিতর্কে। যার ফলে আমরা অল্পতেই নিজেদের অপরের সাথে নানান রকম দ্বিমত ও ঝগড়ায় জড়িয়ে ফেলছি। আমাদের এমন মনভাবের ফলে আমাদের পারিবারিক জিবনের পাশাপাশি সামাজিক ও চাকুরী খেত্রেও প্রভাব ফেলে।

আমাদের সকলকেই জীবনের চলার পথে স্থিরতা প্রদর্শন করতে হবে। যেকোনো ধরনের ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া প্রদানের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে বিরত রাখতে হবে। প্রতিক্রিয়া প্রদানের ক্ষেত্রে জোতটা সম্ভব নিজেকে শান্ত রাখতে হবে। প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের আগে আমাদের অবশ্যই ঘটনার সঠিক তথ্য, কারন, উৎপত্তি, ফলাফল সকল কিছুই জানতে হবে। আমাদের করা প্রতিক্রিয়া কিছুদিন পরেই তার প্রাধান্য হারায়। অতএব প্রতিক্রিয়া করার আগে নিজেকে স্থির রাখুন। তবে ঘটে যাওয়া কোন প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে নিজেকে জোতটা সম্ভব শান্ত রেখে প্রতিক্রিয়া প্রদান না করাই ভাল।

জীবন ব্যবস্থায় আমাদের সাথে ঘটে চলে হাজারো ছোট বড় সব ঘটনা। যেকোনো প্রকার পরিস্থিতিতে আমরা চাপ অনুভব করে থাকি। মানসিক চাপের ফলে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাই যার ফলে সঠিক অনুসন্ধান ছাড়াই নিজেদেরকে নানান প্রশ্নে জড়িয়ে ফেলি। এতে করে আমরা নিজেদেরকে শান্ত রাখতে সক্ষম হই না। সংঘটিত ঘটনার ক্ষেত্রে আমাদের নেতিবাচক মনোভাব থেকে নিজেকে বিরত রেখে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।

আমাদের জীবন ব্যবস্থায় কোন কিছু পাওয়ার আক্ষেপ আমাদের মানসিক চাপকে প্রভাবিত করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমাদের যদি সংক্রান্ত বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে। পরিস্থিতি এমন হলে ভাল হত, যদি সময়ে কাজ হত, যদি করতে পারতাম এই সকল আক্ষেপমূলক কথা থেকে নিজের মাইন্ডকে বিরত রাখতে হবে। মনের মধ্যে প্রশ্নের পরিমান বেড়ে গেলে আমাদের মনে ভয় আর সংশয় বেড়ে যায়।

মনকে শান্ত রাখার জন্য আমাদের বেশি করে বন্ধুদের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে বন্ধুদের মতামত নেওয়া জেতে পারে। পরিস্থিতির বেপারে যত বেশি পরামর্শ নেয়া যায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও প্রতিক্রিয়া প্রদানে সুবধা হয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে চাইলেই সহজে শান্ত রাখা যায়না এটি সময়ের বেপার। মনকে শান্ত রাখার ক্ষেত্রে ব্যায়াম একটি বিশেষ ভুমিকা পালন করবে। হালকা ব্যায়াম ও নিয়মিত ঘুম আমাদের মনের ক্লান্তি দূর করে মনকে শান্ত করে তোলে। যার ফলে আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে শান্ত ও সুশীল ভাবে উপস্থাপন করতে পারি।

খুবি উত্তেজনামূলক ঘটনায় আমরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে নিজেদেরকে বড় প্রমাণ করতে চাই যা কখনই কোন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা । এতে করে মানুষের কাছে আমাদের ছোট মনোভাবের প্রকাশ ঘটতে পারে। এমন অবস্থায় অথবা এই রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। যেভাবেই হোক পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করার জন্য নিজেকে ব্যাস্ত করে ফেলুন। কোন মতেই নিজেকে তুলে ধরতে উত্তেজিত হয়ে পড়বেন না। অন্যের উপরে রাগ দেখানো মটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। নিজের আবেগ ও রাগ উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন করুন।

অন্যের কথা শুনতে হবে আপনাকে স্থিরতার সাথে। অন্যের কথার মুল্য দিতে হবে। এছাড়া নিজেকে শান্ত রাখার জন্য পরিবারের সাথে ভাল সময় পার করুন। সন্তানদের সাথে সময় কাটান পাশাপাশি মেডিটেশন করেও মনকে শান্ত রাখতে পারবেন।

Loading...