The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আজব রেস্টুরেন্ট: যে রেস্টুরেন্ট মুখে কোনো কথা হয় না সব কথা হয় ইশারায়!

এটিকে বলা যায় যেনো একটি চুপকথার রেস্টুরেন্ট

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এক কথায় বলা যায় আজব এক রেস্টুরেন্ট। যে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলে কেও আপনাকে মুখে স্বাগতও জানাবে না। বরং হাত নেড়ে মুখের হাসি দিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে। সব কিছুই হবে ইশারায়!

আজব রেস্টুরেন্ট: যে রেস্টুরেন্ট মুখে কোনো কথা হয় না সব কথা হয় ইশারায়! 1

এমন একটি রেস্টুরেন্টের নাম হলো চু ফু ক্য। এটিকে বলা যায় যেনো একটি চুপকথার রেস্টুরেন্ট। এই রেস্টুরেন্টে সেবাদানকারীরা সবাই মূখ এবং বধির। তারা কারও কথা শুনতেই পান না। তাদের ভাষাই হচ্ছে ইশারা-ভাষা। এই রেস্টুরেন্টে ওয়েটার এবং কাস্টমারের মধ্যে ‘অনুবাদক’ হিসেবে কাজ করেন ওয়ান সুয়ে হুয়া নামে জনৈক ব্যক্তি।

রেস্টুরেন্ট চালুর প্রথম ৬ মাসে তার গলার খুব খারাপ অবস্থা হয়। কাস্টমার হয়তো ডেকে যাচ্ছেন তবে বধির ওয়েটার শুনতেই পাচ্ছেন না। তখন তিনি কাস্টমারের হয়ে জোরে চিৎকার করে ওয়েটারকে ডেকে দেন। এতেও তেমন কাজও হতো না। বধির ওয়েটারদের কোনো কাজের অভিজ্ঞতাও ছিল না। রেস্টুরেন্টে কিভাবে সেবা দিতে হবে, তা তাদের শিখিয়েও দিতে হয়েছে।

মিস্টার ছেন এই রেস্টুরেন্টের প্রতিষ্ঠাতার মাধ্যমে বধিরদের কর্মসংস্থান করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বধিরদের যোগাযোগ আরও বাড়বে। তারা বধিরদের আরও ভালোভাবে বুঝতেও পারবেন।

২০১৭ সালের কথা। তখন তিনি বেইজিংয়ে প্রথমবারের মতো একটি নির্বাক রেস্টুরেন্ট দেখেন। তখন থেকেই তিনি নিজের জন্মস্থান নান ছাং শহরে এমন একটি রেস্টুরেন্ট খুলার পরিকল্পনা করেন। তিনি স্থানীয় প্রতিবন্ধী কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ জন বধিরকে নিয়োগ করেন। শুরুতে ব্যবসা খুব একটা ভালো ছিল না।

সেই সময় কর্মীরা প্রত্যাহ থালাবাসন ভেঙে ফেলতেন। বয়দের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারতেন না বলে তারা রেস্টুরেন্ট ছেড়ে চলেই যেতেন। তবে মিস্টার ছেন তাও হাল ছাড়েননি। তখন তিনি কিছু টোকেন তৈরি করলেন, যেগুলো ব্যবহার করে কাস্টমারদের অর্ডার দিতে পারেন।

অপরদিকে প্রতিটি টেবিলে স্থাপন করা হয় একটি করে কলবেল। বেলটি আবার বধির ওয়েটারদের কবজিতে আটকানো একটি যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কাস্টমার বেল বাজালেই কবজির যন্ত্রটি কম্পন সৃষ্টি করে। এভাবে ধীরে ধীরে ব্যবসা জমে ওঠে এই প্রতিষ্ঠানের। এখন বধির ওয়েটাররা খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারেন।

শুরু থেকেই এই রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন দুজন মেয়ে ওয়েটার। ছেন সিয়াও ইয়ান ও চৌ থিং। রেস্টুরেন্টের কাস্টমারদের অনেকেই এখন তাদের পরিচিত হয়ে উঠেছেন। ব্যস্ত সময় কাস্টমাররা কখনও কখনও ওয়েটার না ডেকে নিজেরাই খাবার নিয়ে নেন কাউন্টার হতে। ওয়েটারদের ছোটখাটো ভুল তারা এখন উপেক্ষা করেন।

সেজন্য মিস্টার ছেন কাস্টমারদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন। কারণ হলো তাদের এমন আচরণ ওয়েটারদের আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি এখন অন্য বড় হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টে নির্বাক এলাকা চালু করতে বেশ আগ্রহী। বধিরদের জন্য আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান মিস্টার ছেন। তিনি চান যে, তারাও নিজের হাতে কর্মব্যস্ত হয়ে সুন্দর জীবন গড়ে তুলুক।

Loading...