The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

গ্রিনল্যান্ড কিনতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প: দেশ বিক্রির আদি ইতিহাস

১০৯৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ১১০১-এর মধ্যে বর্জেসের রাজা ওডো আরপিনাস তাঁর রাজত্ব হতে বর্জেস ও ডান তৎকালীন ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফিলিপের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দেশের পরিসর বাড়াতে কানাডার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন একটি খবর শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন!

গ্রিনল্যান্ড কিনতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প: দেশ বিক্রির আদি ইতিহাস 1

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসিঠাট্টাও শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবে আপনি জানেন কী? দেশ কেনাবেচা এই প্রথম নয়, দেশের আয়তন বাড়াতে আগেও হয়েছে এমন কেনাবেচা।

১০৯৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ১১০১-এর মধ্যে বর্জেসের রাজা ওডো আরপিনাস তাঁর রাজত্ব হতে বর্জেস ও ডান তৎকালীন ফ্রান্সের রাজা প্রথম ফিলিপের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। যার বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন ৬০ হাজার শিলিং। ইতিহাসবিদরা মনে করেন যে, ওডো আরপিনাস ১১০১ সালে ধর্মযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সে কারণে অর্থ সাহায্যর জন্য এই দুই দেশ বেচে দিয়েছিলেন তিনি, আবার ইতিহাসবিদদের একাংশের ধারণা মতে, আরপিনাস নিঃসন্তান হওয়ার কারণে তিনি এই দুই দেশের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন।

স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত হলো এই হেব্রিডিস। গ্রেট ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত আইল অব ম্যান-এর স্বত্ব স্কটল্যান্ডকে দিয়ে দেয় নরওয়ে ১২৬৬ সালে। ১২৬৬ সালের ২ জুলাই পার্থের চুক্তির সময় স্কটল্যান্ডের তৎকালীন রাজা তৃতীয় আলেকজান্ডার ও নরওয়ের ষষ্ঠ ম্যাগনাসের মধ্যে এই চুক্তিটি হয়েছিল। বিনিময়ে নরওয়ে পায় ৪ হাজার মির্কে (স্কটিশ সিলভার কয়েন)।

ডেনমার্কের ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৩৩ সালে ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ড সেন্ট ক্রয়েক্স ফ্রান্সের কাছ থেকে কিনে নেয়। এই অঞ্চলের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার লিভরে দিয়েছিলে কোম্পানি। কর্সিকা ১৭৫০ সালে জেনোয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ইতালির জেনোয়াকে তখন ফ্রান্সের সামরিক সাহায্য নিতে হয়। শর্ত দেওয়া হয়েছিল কর্সিকাকে ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কর্সিকা পুরোপুরিভাবে ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত হয় ১৭৬৮ সালে।

জানা যায়, ১৮০৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে এক কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে লুইসিয়ানা কিনে নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সব মিলিয়ে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার অঞ্চল কিনেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রান্সের ফ্রানকো বারবে মারবয়ে ও আমেরিকার জেমস মনরো এবং রবার্ট লিভিংস্টোনের মধ্যে এই চুক্তিটি হয়েছিল। ১৮১৯ সালে আবারও দেশ কেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা এবার স্পেনের কাছ থেকে ফ্লোরিডা কিনে নেয়। এর জন্য তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৫০ লাখ ডলার গুণতে হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুয়াদালুপের চুক্তি হয়েছিল মেক্সিকোর ১৮৪৮ সালে। সেই চুক্তিতে তৎকালীন ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ৫ লাখ ২৫ হাজার বর্গমাইল অঞ্চল কিনে নিয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে এই অঞ্চলটির মধ্যে আরিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা এবং উটাহ শহর গড়ে উঠেছে। রাশিয়ার সঙ্গে অনেক দর-কষাকষির পর ১৮৬৭ সালে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিনিময়ে আলাস্কা কিনে নিয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্পেন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সময় ১৮৯৮ সালে ২ কোটি ডলারের বিনিময়ে ফিলিপিন্স কিনে নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে এই চুক্তিটি মঞ্জুর হয়েছিল বলে ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়।

পানামা খাল এবং এর আশপাশের অঞ্চল লিজ নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯০৩ সালে। বিনিময়ে ১ কোটি ডলার পানামাকে দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৯ সালে এই লিজের সময়সীমা শেষ হয়েছিলো। যে কারণে আবারও পানামা খালের স্বত্ব পানামা সরকারকে ফিরিয়ে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...