The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এবার বিমানের চেয়েও দ্রুতগতির ট্রেন

যানবাহনের সাথে মানুষের জীবন চলাচলের সম্পর্ক নিবিড় ভাবে জড়িত অতীতেও ছিল এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও একই গতিতে চলতে থাকবে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আমাদের দ্রুত গতিময় জীবনের গন্তব্যে পৌঁছাতে মানুষ জীবন চলার পথ অতিক্রম করতে ও মানব কল্যাণের স্বার্থে একের পর এক যানবাহন তৈরি করে চলেছে। এবার আসছে বিমানের চেয়েও দ্রুতগতির ট্রেন!

এবার বিমানের চেয়েও দ্রুতগতির ট্রেন 1

যানবাহনের সাথে মানুষের জীবন চলাচলের সম্পর্ক নিবিড় ভাবে জড়িত অতীতেও ছিল এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও একই গতিতে চলতে থাকবে। যানবাহন আমাদের জীবন ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে যার ফলে বহুল দূরত্বের পথ আমরা নিমিষেই পার হয়ে যেতে পারি। ঠিক এমনই হাইপারলুপ রেল নেটওয়ার্ক আবিষ্কৃত হয়েছে যা অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে প্রায় নীরবে পরিবহন ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে পরিবহন জগতে। এটি কোলন শহরের প্রধান স্টেশন থেকে প্রতিদিন আড়াই লাখ মানুষ কে নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

বর্তমানে জার্মানির দ্রুতগতির ট্রেন সমুহ ঘন্টায় ৩০০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিতে ছুটতে পারে কিন্তু হাইপারলুপ ট্রেন চুম্বকের উপরে ছুটবে যা অবিশ্বাস্য গতি ধারণ করবে বলে ধারনা প্রকাশ করেন উদ্যোক্তারা। হয়তো নতুন এই আবিষ্কারের পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ইউরোপের সব শহরে পৌঁছে যাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যে নানা শহরে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের ডেফট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইপারলুপ বিভাগ। সে ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে হাইপারলুপ নেটওয়ার্কে রূপরেখা তৈরি করেছেন ২৪ বছর বয়সী রেনেকে তিনি বলেন হাইপারলুপের কল্যাণে আর কোনো সীমানা ও অঞ্চল টের পাওয়া যাবে না ইউরোপে এবং তা অল্প সময়ের মধ্যেই অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তিনি আরো ব্যাক্ত করেন যে কোন স্টেশনে গিয়ে হাইপারলুপ ট্রেনে কাছে বসলে খুবি অল্প সময়ের মধ্যে ইউরোপের যে কোন স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া সম্ভব হবে। হাইপারলুপের এই যাত্রা হবে বিমান থেকেও দ্রুত গতির বলে দাবি করেন তিনি।

এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কার সত্যিই কি কোন দিন এক হাজার ২০০ কিলোমিটার গতিতে মানুষ যাত্রা করতে পারবে? এসম্পর্কে ডেভলপার টিমের প্রধান টিম ফ্লেসহুয়ার বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন যে হাইপারলুপ কে পরিবহনের পঞ্চম যান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাইপারলুপ ট্রেন হল পরিবহনের ভবিষ্যৎ একটি যানবাহন যা অনেকটা ট্রেনের মত হবে এবং যা পাইপের মধ্যে দিয়ে ভরা থাকবে। এটি নল থেকে বাতাস বের করে নিয়ে ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি করবে ফলে বাতাসের ধাক্কা শেষ হয়ে যাবে তাছাড়া ট্রেন চুম্বকের উপরে ভাসতেই থাকবে। যার ফলে এতে কোন প্রকার ফ্রিকশন ঘটবে না এবং এটি অত্যন্ত কম জ্বালানি ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবে এবং হবে সর্ব দ্রুতগতি সম্পন্ন। এই হাইপারলুপে ব্যবহার করা হবে ছোট আকারের বেশকিছু চুম্বক যাকে বলা হয় হলবাখ-এ্যারে। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করার ফলে যাত্রাপথে যাত্রীরা কোন প্রকার ঝাকুনি টের পাবে না এবং এতে তাদের যাত্রাপথ হবে আরামদায়ক। হলবাখ-এ্যারে সাজানো চুম্বকের একটি সমষ্টি বিশেষ যার ফলে একটি সম্মিলিত চুম্বক শক্তি পাওয়া যাবে। রেল লাইনে থাকা চুম্বক ও ট্রেনের চুম্বক পরস্পরকে ঠেলা মারবে এবং যার ফলে ট্রেনটি ভাসমান অবস্থায় চলতে শুরু করবে এবং ইলেকট্রিক ইঞ্জিনটি ট্রেনটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

এই প্রকল্পের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে সকলেই প্রায় এক বছরের মতো ছুটি নিয়ে কাজ করে চলেছে অনবরত। হাইপারলুপ টিম ক্যাপ্টেন রিনেকে ফান নরট জানান এবং সকলেই এ উদ্যোগকে উৎসাহ প্রদান করেন। ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় হাইপারলুপ নেটওয়ার্কের কাজ শেষ করা যাবে বলে ডেলফট বিশ্ববিদ্যালয় টিম বিশ্বাস করেন। সেখানে একদল তরুণ-তরুণী চলতি বছরের মধ্যেই ক্যাপসুলের মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র সংস্করণ গড়ে তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে।

Loading...