The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আপনার ভ্রমণ: অবিশ্বাস সকল হোটেল

পৃথিবীতে রয়েছে হাজারো ঐতিহ্যবাহী হোটেল সমূহ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নগরায়নের এই সময়ে ভ্রমন প্রিয় মানুষ গুলোর কাছে হোটেল যেন খুবি চমৎকার কিছু অভিজ্ঞতার একটি যা তাদের ভ্রমণকে করে তলে মজার থেকে মজাদার।

আপনার ভ্রমণ: অবিশ্বাস সকল হোটেল 1

আমাদের পৃথিবীর প্রায় সকল পর্যটকদের কাছে সকল পর্যটন জায়গাগুলোতে সব থেকে বেশি আকর্ষিত করা হয় হোটেল গুলোতে। নানা রকম সাজে নানা রকম আকারে তৈরি করা হয় এই সকল হোটেল গুলকে। পৃথিবীতে রয়েছে হাজারো ঐতিহ্যবাহী হোটেল সমূহ। হোটেল গুলোকে সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর করে তোলার জন্য ব্যয় করা হয় কোটি কোটি টাকা, দেয়া হয় অক্লান্ত পরিস্রম। হোটেলে থাকা সকলকে প্রদান করা হয় নানাবিধ সুবিধা ও সুযোগ। হোটেলে আগত সকলের মনোযোগ ও তাদের খুশি করার জন্য হোটেল গুলোকে তৈরি করা হয় বিভিন্ন আঙ্গিকে জাতে গ্রাহকের রুচি অনুযায়ী দেয়া যায় ভিন্ন স্বাদ। ঠিক এমন কিছু ভিন্ন আকৃতির হোটেল নিয়ে আজকের এই লিখা।

স্পেসশিপ হোটেল

স্পেসশিপ নামটি শুনতে কেমন জানি একটু কৌতূহল কাজ করে আমাদের মাথায় যারা ফ্লাইং সসারে চেপে ভিনগ্রহের এলিয়েন দেখার প্রতি আকর্ষণ ও আকাশে সাথে সম্পর্ক সৃষ্টিতে বিশ্বাসী তাদের জন্য এই চমকপ্রদ হোটেল। এটা ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক শেষে তৈরি করেন। অলিম্পিকে ব্যবহৃত বড় একটা কন্টেইনার তারা কিনে নেন যা দ্বারা তারা এই চমৎকার হোটেল তৈরি করেন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পাঠকদের জন্য সসারে একটি কাটানোর জন্য এর ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অয়েলশের বসবাসরত এক দম্পতি। তারা প্রায় এক বছর কাজ করে সেটিকে ফ্লাইং সসারে রূপ প্রদান করেন যাতে এটি সম্পূর্ন স্পেসশিপ বা উড়ন্ত সসারের মত দেখা যায়। এটি খুবই সুন্দর ভাবে তৈরি করা হয় যাতে ব্যয় করা হয় যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ এবং এই হোটেলের প্রবেশ পথেই রয়েছে একটি এলিওনের পুতুল। হোটেলের ভিতর সম্পূর্ণ স্পেসশিপে থাকার অনুভূতি যোগাবে এমন সকল আসবাবপত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

লাইব্রেরী হোটেল

এটি আসলে লাইব্রেরী তাকে থাকার ব্যবস্থা করা একটি কক্ষ যেখানে বইপড়ুয়া বা বইপ্রেমীরা খুব সহজে পড়তে পড়তেই সেই তাকের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন। এটি জাপানের টোকিও শহরের ২০১৫ সালের ইকেবুকুরও এলাকায় খোলা একটি বুকসেলফ হোটেল। এটা খুবই জনপ্রিয় হোটেল এবং অল্প সময় এত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে পরবর্তীতে জাপানের আরো ছয় থেকে সাতটি এলাকাতেই এই বুক শেল্ফ হোটেলটি চালু করা হয়। এই চমৎকার হোটেলের নাম প্রদান করা হয় বুক এন্ড বেড। মূলত এই হোটেলটিতে প্রতিটি ঘরের মধ্যের শেল্ফটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে করে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই তাদের পছন্দের বই পরতে পরতে ঐ তাকেই ঘুমিয়ে পরতে পারেন। এবং এটিতে ঘুমানোর সুব্যবস্থা রয়েছে যাতে বই পড়তে পড়তে বইপ্রেমীরা খুব সহজেই রাত যাপন করার পাশাপাশি তারা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এই হোটেল ব্যবস্থায় যাতে দুইজন একসাথে বই পরে রাত কাটাতে পারে এই ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সেন্ড হোটেল

সমুদ্রের পাড়ে বালুর প্রসাদ আমরা অনেকেই তৈরি করেছি কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি ঠিক একইভাবে যদি বালুর একটি দুর্গ থেকে বিশাল আকারের হোটেল তৈরি করা সম্ভব হয় যাতে থাকা যাবে এমনকি রাত্রিযাপন করাও যাবে। ঠিক এমনই একটি অভিনব আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে নেদারল্যান্ডের ওস ও স্নিক শহরে তৈরি করা হয় স্যান্ড হোটেল। ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতি বছরই গ্রীস্মের নেদারল্যান্ডের এই দুটি শহরে বালু দিয়ে হোটেল তৈরি করা কাজ করা হয়। যেখানে দর্শনার্থীরা হোটেলগুলোতে থাকতেও পারে এবং বালুর ঐ হোটেলগুলোতে আছে বেডরুম রয়েছে শোপিস রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং এই সকল কিছুই বালু দিয়ে তৈরি করা। সবথেকে মজাদার ও ভিন্নতর কথা হল এই হোটেলের ভেতরে সৌন্দর্যবর্ধক সকল জিনিস এমনকি এর মাঝে থাকা শোপিস গুলো পর্যন্ত বালুর তৈরি। প্রতিবছর গ্রীস্মে নেদারল্যান্ডে এই দুটি শহরে স্যান্ড হোটেলে থাকার জন্য খুবই আগ্রহী হয়ে থাকে দর্শনার্থীরা।

পাখির বাসায় একরাত

আমরা যারা পাখিপ্রেমী যারা প্রকৃতিপ্রেমী চাইলে পাইনা একটু নির্মল হাওয়া তাদের জন্য কবির ভাষায় যেন সেই পাখির বাসা তৈরি করে দিল যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে। চমৎকার হোটেলটি খুবই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এবং খুব চমৎকার ভাবে তৈরি করা একটি হোটেল যেখানে রয়েছে পাখির বাসার মত ঝুলন্ত ছোট ছোট কক্ষ। আপনি সারারাত আরামে দোল খেতে খেতে রাত কাটিয়ে দিতে পারবেন এবং এই ঘরটি সম্পূর্ন মাটি থেকে ১০ মিটার উঁচুতে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে মাটি থেকে ১০ মিটার উপরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে তৈরি করা হয়েছে গোলাকার ছোট ছোট কক্ষ যা খুব সকল সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। খুব স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই এই চমৎকার হোটেলটিতে থাকা সম্ভব।

এছাড়া আরও রয়েছে সমুদ্রের নিচে একুরিয়ামে বসবাস করার মত রোমাঞ্চকর হোটেল যেখানে খুব সহজেই আমরা পানির নিচে থাকা পরিবেশের সাথে মিশে যেতে পারবো। দুবাইয়ের নামীদামী হোটেলগুলোতে এই একুরিয়াম রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও একুরিয়াম হোটেলগুলোতে থাকা খুবই ব্যয়বহুল একটি ব্যাপার তবুও অসংখ্য পর্যটক এই সকল হোটেল গুলোতে থাকার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন এবং ব্যয় করে থাকে হাজার হাজার ডলার।

Loading...