The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেনো ব্যথা বাড়ে

তাপমাত্রা যতো নামবে ব্যথার তীব্রতাও ততোই বাড়বে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শীতকাল এসে গেছে। ষড়ঋতুর এই দেশে একেকটি ঋতুতে একেক রূপ রঙ নিয়ে হাজির হয়। অভ্যস্ত মানুষজন প্রকৃতির এই পালাবদলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যান। অনেক সময় দেখা যায় শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথাও বেড়ে যায়।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেনো ব্যথা বাড়ে 1

শীত উৎসবের ঋতু বলা হলেও বয়ষ্কদের কাছে শীত ব্যথার ঋতু হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা আর্থ্রারাইটিস কিংবা অস্থিসন্ধির ব্যথায় কাবু তাদের জন্য শীত হলো এক আতঙ্কের নাম।

ঠাণ্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেনো ব্যথাও বাড়তে থাকে। তাপমাত্রা যতো নামবে ব্যথার তীব্রতাও ততোই বাড়বে। তবে কেনো? চিকিৎসকদের মতে, তাপমাত্রা কমলে জয়েন্ট কিংবা অস্থিসন্ধির রক্তনালীগুলি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে রক্তের তাপমাত্রাও বেশ কমে যায়। যে কারণে গাঁট শক্ত হয়ে ফুলে ওঠে। এতে করে অনেকেরই ব্যথা বাড়তে থাকে।

বিষয়টির ব্যাখ্যা চিকিৎসকরা ঠিক এভাবেই দিয়েছেন। আর তা হলো, শীতে আমাদের রক্তও তুলনামূলক ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে। তাই শরীরকে উষ্ণ রাখতে আমরা এই সময় গরম পোশাক পরে থাকি। ঠাণ্ডার জন্যই শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত সঞ্চালনের বেগ কমে আসে। যে কারণে ঠাণ্ডা ত্বকে ব্যথার প্রভাব বেশি অনুভূত হয়ে থাকে। আর এরই আরেক নাম হলো বাত। বয়স ৪০-এর বেশি হলেই সাধারণত আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হন মানুষ। এই সমস্যায় পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশিই ভোগেন। হাঁটু যেহেতু শরীরের সমস্ত ওজন বহন করে থাকে তাই সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গ অর্থাৎ। রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলে গাঁট কিংবা অস্থিসন্ধির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গ কিংবা পুরো শরীরও অনেক সময় আক্রান্ত হতে পারে। তখন শরীর জুড়ে ব্যথা, ফোলাভাবও দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই হাত-পা বেঁকেও যেতে পারে। পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, অনেক সময় জ্বরও হয়।

এখন প্রশ্ন হলো কেনো বয়ষ্করাই বেশি ভোগেন এই সমস্যায়? চিকিৎসকদের কাছে এর একটি ব্যাখ্যাও আছে। তারা বলেন- বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলাফল, হাড়ের ক্ষয়। এছাড়াও লিগামেন্টগুলোর দৈর্ঘ্য ও নমনীয়তাও হ্রাস পায়। যে কারণে জয়েন্টগুলো তখন ফুলে যায়।

এই সমস্যা এড়ানোর পরামর্শ হিসেবে প্রথমেই চিকিৎসকরা বলেছেন রোদের কথা। সকালের নরম রোদে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। তাই শীতের সকালে রোদে শরীর এলিয়ে দিয়ে বসতে হবে। প্রচুর ভিটামিন ডি শরীরে প্রবেশ করলেই কমবে এই ব্যথা ও জয়েন্টের ফোলাভাবও কমে যাবে। রোদের তাপে তখন উষ্ণ হবে শরীর। রক্ত সঞ্চালনও হবে দ্রুত, যে কারণে ব্যাথা কমে যাবে আপনা আপনিই।

Loading...