দুর্নীতি কমাতে হলে দুদককে আরও শক্তিশালী করতে হবে

ঢাকা টাইমস্‌ রিপোর্ট ॥ দুর্নীতি আমাদের দেশের একটি বড় জাতীয় সমস্যা। এই দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তারাই দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কখনও দুর্নীতির তেমন কোন অভিযোগ শোনা যায় না। ক্ষমতাচ্যুত হলে তখন তাদের বিরুদ্ধে পাহাড় পরিমাণ দুর্নীতির কথা ওঠে।

দুর্নীতির কথা সবাই বলছে, সবাই দুর্নীতি নামক এই ব্যধিটার কথা অপকটে বলছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। একজন পিয়ন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র প্রধানের দপ্তরেও দুর্নীতি হচ্ছে এমন অনেক নজির আমাদের আছে। কিন্তু এই দুর্নীতি প্রতিরোধে আমরা কি ভূমিকা রাখছি? আমরা মুখে বলছি অনেক কথায় কিন্তু বাস্তবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছি না। যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদককে আমরা বাস্তবে কার্যকরি ভূমিকা রাখতে দিচ্ছি না। দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। দুর্নীতির কারণে দেশের বড় বড় প্রকল্পগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেমন পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর শুরুতেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় বিশ্ব ব্যাংক এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে দুর্নীতির কারণে দেশের বহু প্রকল্প বন্ধ হয়েছে বা হচ্ছে। আমাদের উন্নয়নের বেশির ভাগ অর্থ আসে বিদেশ থেকে কিন্তু এই দুর্নীতির কারণে অনেক প্রকল্পের অর্থ শেষ পর্যন্ত ফেরত যায় এমন নজিরও রয়েছে।

দুর্নীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুদক আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে দুদককে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। সমপ্রতি তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটি ও আইনমন্ত্রীর কাছে দুদক থেকে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা আইনে রূপ পেলে দুদক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরও কঠোরভাবে কাজ করতে পারবে। দুর্নীতিবিরোধী সপ্তাহ উপলক্ষে দুদক কার্যালয় থেকে ২৮ মার্চ একটি দুর্নীতিবিরাধী র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদানকালে দুদক চেয়ারম্যান উপরোক্ত কথা বলেন। এ সময় দুদকের দুই কমিশনার এম বদিউজ্জামান ও এম সাহাবুদ্দিন এবং সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরীসহ প্রায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। গোলাম রহমান বলেন, সমাজে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ নিষ্ঠাবান নাগরিক তৈরির জন্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে সততা সংঘ। তিনি বলেন, দুর্নীতি হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান অন্তরায়। এ কারণে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে, যাতে দুর্নীতিবাজরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের চেয়ারম্যান যে কথাটি বলেছেন, “দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই”। এ কথাটি বাস্তব সত্য কথা। এর আলোকে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদককে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। সমাজের রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি নামক যে পয়জন ঢুকেছে, তা থেকে জাতিকে বাঁচাতে হলে দুদককে শক্তিশালী করতে হবে। পিয়ন হোক আর মন্ত্রী হোক যেই হোক না কেনো যদি দুর্নীতিবাজ হয় তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে কেও দুর্নীতির সাহস পাবে না।

Advertisements
Loading...