The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

করোনার মধ্যেও নাসার পক্ষ হতে এলো নতুন দুঃসংবাদ

আসন্ন ২৯ এপ্রিল পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ থেকে প্রবাহিত হয়ে যাবে একটি পরম শক্তিশালী গ্রহাণু

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পুরো বিশ্বের মানুষ আজ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আতঙ্কিত। কোনও ধরণের অস্ত্র নয়; বা কোনও ধরণের পারমাণবিক বোমাও নয়; ক্ষুদ্র সামান্য কয়েক ন্যানো মিটারের একটি অণুজীবের কাছে সারা পৃথিবীর মানুষ আজ অসহায় হয়ে পড়েছে।

করোনার মধ্যেও নাসার পক্ষ হতে এলো নতুন দুঃসংবাদ 1

সারা পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত এই করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আক্রান্ত কেও না কেও মৃত্যুবরণ করছেন ও ২০ মার্চ শুধু ইতালিতেই একদিনে ৬২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এই করোনার ছোবলে। বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সারা পৃথিবীতে সব মিলিয়ে এই পর্যন্ত ২,৭৬,৪৬২ জন কোভিড-১৯ খ্যাত নোভেল করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১১,৪১৭ জনের মৃত্যুও ঘটেছে। আমরা কেওই বলতে পারি না এই পরিস্থিতি আরও কতো দিন অব্যাহত থাকবে।

এমন একটি ক্রান্তিকালীন মুহূর্তে মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ হতে দেওয়া হলো একটি দুঃসংবাদ। আসন্ন ২৯ এপ্রিল পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ থেকে প্রবাহিত হয়ে যাবে একটি পরম শক্তিশালী গ্রহাণু। নাসার পক্ষ হতে এই গ্রহাণুটির নাম দেওয়া হয়েছে Asteroid 52768 কিংবা 1998OR2.

যদিও এই গ্রহাণুটি সরাসরি পৃথিবীর ওপর কোনও ধরণের আঘাত হানবে না। তবুও পৃথিবীর কক্ষপথ হতে এই গ্রহাণুর দূরত্ব হবে আনুমানিক ৪ লক্ষ মাইলের মতো। যা পৃথিবীর হতে চাঁদের দূরত্বের ১৬ গুণেরও বেশি। যদিও পৃথিবীর কক্ষপথ হতে ৩.৯ লক্ষ মাইলের অভ্যন্তরে এই গ্রহাণুটি আসবে না, তবুও এই গ্রহাণুটির বিশাল আকৃতির জন্য কিছুটা হলেও শঙ্কা থেকেই যায়।

আনুমানিক ১.১ হতে ২.৫ মাইল ব্যাস বিশিষ্ট এই গ্রহাণুটি ঘণ্টায় ২০ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ দিয়ে প্রবাহিত হবে, যার প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আসতে পারে বলেও কোনও কোনও বিজ্ঞানী মনে করছেন।

সেই সঙ্গে এই গ্রহাণুর প্রভাবে পৃথিবীর অনেক স্থান সাময়িক সময়ের জন্য সূর্যের আলো হতে বঞ্চিত হতে পারে এবং একই সঙ্গে সৃষ্ট অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবে পৃথিবীর এই সকল অঞ্চলে চাষাবাদের ক্ষেত্রেও একটি বিশাল বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে অনেক বিজ্ঞানীই মনে করছেন।

যদিও নাসার পক্ষ হতে এখন পর্যন্ত সরাসরি এই বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনও কিছু বলাও হয়নি। বিভিন্ন কারণে একটি গ্রহাণু তার গতিপথের পরিবর্তনও করতে পারে। যেমন চলার পথে কোনও একটি নির্দিষ্ট গ্রহের বা বৃহৎ উল্কাপিণ্ডের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্ৰভাবে একটি গ্রহাণু তার গতিপথকে পরিবর্তিত করতে পারে।

আবার ইয়ারকোভজি ইফেক্টের কথাও আমরা অনেকেই শুনেছি। অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাবে একটি গ্রহাণুর তাপমাত্রার পরিবর্তনও ঘটতে পারে। যে কারণে গ্রহাণুটি ঘুরে যেতে পারে, এমনকি কক্ষপথেরও পরিবর্তন ঘটতে পারে। অর্থাৎ এটি ইয়ারকোভজি ইফেক্ট। হয়তোবা সাময়িকভাবে মনে হচ্ছে, ৪০,০০০ মাইল বিশাল একটি দূরত্ব তবে যে কোনও সময়ে গতিপথের পরিবর্তন বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিশেষ করে পৃথিবীর পৃষ্ঠের ওপর একটি প্রভাবও ফেলতে পারে।

আজকের হতে আনুমানিক ৬৬ লক্ষ বছর পূর্বে পৃথিবীর পৃষ্ঠে এই রকম একটি শক্তিশালী গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী হতে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে। আসলে শুধু ডাইনোসর নয়, ধারণা করা হয় যে এই গ্রহাণুর প্রভাবে সেই সময় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসবাস করা প্রাণীকুলের শতকরা ৭০ ভাগ প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, “ডাইনোসর কিলার অ্যাস্টোরয়েড” খ্যাত এই গ্রহাণুর আঘাতে মেক্সিকোর ইয়োকাটোন দ্বীপের কাছে একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয় যার ব্যাস স্থানভেদে ৬.৮ মাইল হতে ৫০.৩ মাইল ও ধারণা করা হয় যে এই গ্রহাণুর আঘাতের প্রভাবে পৃথিবীর সামগ্রিক জলবায়ুর এক বিশাল পরিবর্তনও সূচিত হয়েছিল।

যদিও Asteroid 52768 সরাসরি পৃথিবীর বুকে আঘাত হানছে না এটি নিশ্চিত, তবে পৃথিবীর কক্ষপথ হতে এর নিকটতম দূরত্ব হবে প্রায় ৪ লক্ষ মাইলের মতো। তবুও এর বিশাল আকৃতির জন্য ও একই সঙ্গে এর উচ্চ গতিবেগ এবং বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতির কারণে কিছুটা হলেও শঙ্কা হতেই যাচ্ছে আমাদের সকলের জন্যই।

# লেখক : শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া।

Loading...