The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

একটি বিশ্লেষণ: ভারতের প্রতি চীন চড়াও কেনো?

মাঝে মধ্যে দেশ দু’টির মধ্যে চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কিছু দিন ধরেই হঠাৎ করেই ভারতের প্রতি চড়াও হয়েছে প্রতিবেশি দেশ চীন। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ভারতের প্রতি চীন চড়াও কেনো? এর কারণ কী? আজ রয়েছে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

একটি বিশ্লেষণ: ভারতের প্রতি চীন চড়াও কেনো? 1

মাঝে মধ্যে দেশ দু’টির মধ্যে চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তবে এবার ভিন্ন মাত্রা দেখা গেছে। ভারতের কাছাকাছি বিমানঘাঁটি বানানো এবারই প্রথম।

তাছাড়া করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব যখন টালমাটাল অবস্থা তখন কেনো চীন আগ্রাসী মনোভাবে নিয়ে চলছে, তা নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণ। ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল সৌমিত্র রায় মনে করেন, ছয়টি কারণে চীন এবার ভারতের ওপর চড়াও হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় তিনি ৫টি কারণ উল্লেখ্য করে একটি কলামও লিখেছেন। কর্নেল সৌমিত্র রায়ের কলাম হতে নির্বাচিত অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো;

“চীনের লক্ষ্য একটা, ভারতের ওপর প্রবলভাবে চাপ তৈরি করা। কারণগুলোতে একটু চোখ রাখা যাক। বিশ্লেষণটি সময় টিভি থেকে নেওয়া।

প্রথমত: চীন এই মুহূর্তে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। গোটা পৃথিবীতে এখন চলছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। এই ভাইরাস চীনের উহান হতেই ছড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক শিবিরের বিরাট অংশের দাবি। উহানের ল্যাবে কোনও দুর্ঘটনা হতেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লো কি না, ওই ল্যাবে আসলে ভয়ঙ্কর জীবাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল কি না; সে সব তদন্ত করে দেখার দাবিও উঠেছে। এমন এক পরিস্থিতি চীনের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। ভারত যাতে এই আন্তর্জাতিক তোড়জোড়ের শরিক না হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে চায় চীন। তাই সীমান্তে পরিস্থিতির উত্তাপ বাড়িয়ে ভারতকে চাপের মধ্যে ফেলার চেষ্টা শুরু করেছে চীন।

দ্বিতীয়ত: তাইওয়ান ও হংকং নিয়েও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে চীনের ওপর। চীনা শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে উঠছে হংকংয়ে। তাইওয়ান বিতর্কে চীন কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় পতিত হয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘনিয়ে ওঠা এই অশান্তিতে ভারত যদি তাইওয়ান ও হংকং-এর বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিতে পারে, তা হলে চীনের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে। তাই ভারতকে উত্তর সীমান্তে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলেই মনে হয়।

তৃতীয়ত: বাণিজ্য ও অর্থনীতি নিয়েও সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে চীনের। আমেরিকার সঙ্গে চীনের শুল্ক যুদ্ধ বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে। তাতে করে আমেরিকারও লোকসান হচ্ছে। তবে চীনকেও খুব বড় বাণিজ্যিক সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়েছে। চীনের সেই সঙ্কট শুধু আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে আর সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্বের বৃহত্তম বাজারগুলির অন্যতম যে ভারত, সেখানেও চীনা পণ্যের রমরমায় রাশ টানার ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ভারতীয় বাজারে চীনা পণ্যের অবাধ প্রবেশও কিছুটা কঠিন করে তুলেছিল সাম্প্রতিক সময় ভারত। চীন এখন তার প্রতিশোধ নিতে চাইছে।

চতুর্থত: করোনা সংক্রমণের নেপথ্যে চীনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর হতে অনেকগুলো বৃহৎ বহুজাতিক সংস্থা চীন ছাড়তে উদ্যত হয়েছে। তেমন পরিস্থিতি হলে ভারতও যেনো প্রস্তুত থাকে, সে বিষয়েও তৎপর রয়েছে নয়াদিল্লি। তবে এই পরিস্থিতি কোনো অবস্থাতেই তৈরি হতে দিতে চায় না চীন। নিজেদের দেশ থেকে বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়া চীনের জন্য যতোটা বড় ধাক্কা, সেই বিনিয়োগ ভারতে ঢোকা তার চেয়েও অনেক বড় ধাক্কা। সুতরাং ভারতের সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করে রাখা এখন চীনের পক্ষে খুব জরুরি একটি বিষয়। যাতে কোনও বড় বিনিয়োগকারী চীন ছাড়লেও ভারতে পা না রাখার চিন্তা না করেন।

পঞ্চমত: চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান ক্রমশ আরও বেশি করে বিপন্ন বোধ করতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। জম্মু-কাশ্মীর হতে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার ও সে রাজ্যকে ভাগ করে দিয়ে দুটো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার সিদ্ধান্ত যেদিন নিয়েছে ভারত, সেদিন থেকেই পাকিস্তানে এই বিষয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়ে গিয়েছে। ঘনিষ্ঠ মিত্রের আতঙ্ক কমাতে চীন ময়দানে নামলো এবার। আকসাই চীন এবং লাদাখকে ভাগ করে রেখেছে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল কিংবা এলএসি), তা পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার করে ঢুকে আসতে শুরু করলো চীন। যাতে আপাতত চীনকে সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে ভারত ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে আপাতত ভাবতেও না পারে।

‌ষষ্ঠত: শুধু পাকিস্তানই নয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বর্তমানে ভারত যা ভাবছে, তাতে করে চীনের অস্বস্তিও বাড়ছে। চীনের শিনচিয়াং প্রদেশের কাশগড় হতে শুরু হওয়া চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ওই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান হয়েই পাক পাঞ্জাব, সিন্ধ হয়ে বালুচিস্তানের উপকূলে পৌঁছে গ্বাদর বন্দর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। ভারত যদি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালায়, সে ক্ষেত্রে চীনের তৈরি করা ওই অর্থনৈতিক করিডর তথা মহাসড়কও তখন বিপন্ন হবে। কাশগড়ের সঙ্গে গ্বাদরের সড়ক যোগাযোগ তখন ছিন্ন হয়ে যাবে। সুতরাং ভারতকে এখন অন্য সীমান্তে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছে চীন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...