The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

আরেক নতুন বিপদ: ব্যানানা কোভিড আক্রমণের আশঙ্কা!

করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্থবির পুরো বিশ্ব। দেশে দেশে চলছে বন্ধাবস্থা বা লকডাউন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা এবার কলার উপর ভর করেছে! এমন একটি খবরে সম্প্রতি বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ব্যানানা কোভিড আক্রমণের!

আরেক নতুন বিপদ: ব্যানানা কোভিড আক্রমণের আশঙ্কা! 1

করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্থবির পুরো বিশ্ব। দেশে দেশে চলছে বন্ধাবস্থা বা লকডাউন। এই সংকট কবে কাটবে কেও তা জানে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে, করোনা এতো সহজে যাবে না। মানবজাতিকে এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে। এর মধ্যে আবার দেখা দিয়েছে নতুন আরেকটি বিপদ। এবার আরেক ভাইরাস ব্যানানা কোভিড (Banana Covid) হানার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতি না করলেও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে বলে জানা গেছে। বিঘার পর বিঘা জমি উজাড় হয়ে যেতে পারে এই ভাইরাসটির আক্রমণে।

ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ব্যানানা কোভিড প্রথমে তাইওয়ান হতে ছড়াতে শুরু করেছিল। তারপর মধ্য প্রাচ্যের একাধিক দেশে এই ভাইরাস ব্যাপক ক্ষতিও করে। প্রচুর জমির ফসল এই ভাইরাসের আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি আফ্রিকার একাধিক দেশেও ব্যানানা কোভিড এর জন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের একাধিক জায়গায় কীটনাশক ছড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে। তবে তাতে এই ভাইরাস রোধে কতোটা কাজ হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

ব্যানানা কোভিড মূলত এক ধরনের ফাঙ্গাস ইনফেকশন। যার বৈজ্ঞানিক নাম হলো ফ্যুজেরিয়াম বিল্ট টিআরফোর। এই ভাইরাসের সঙ্গে কলার নাকি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কলা থেকেই অন্য ফসলেও ছড়াতে শুরু করে এই ক্ষতিকর ভাইরাসটি। বিশ্বের সব থেকে বেশি কলা চাষ হয়ে থাকে ভারতে। যে কারণে ভারতে এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা সব থেকে বেশি বলেই মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তবে এ পর্যন্ত ভারতের কোথাও ব্যানানা কোভিড ছড়ানোর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। ব্যানানা কোভিড ছড়াতে শুরু করলে তা রোধ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই ছড়ানোর পূর্বেই সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...