The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মানুষের মগজ খেকো এক অ্যামিবার খোঁজ!

বিজ্ঞানীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়ঙ্কর এক জীবাণুর সন্ধান পেয়েছেন। এই জীবাণু মানুষের শরীরে একবার ঢুকতে পারলে মস্তিষ্ক ধ্বংস করে দেয়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে সারাবিশ্ব যখন বিপর্যস্ত অবস্থা ঠিক তখন নতুন এক বিপদের আভাস দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের মগজ খেকো এক ‘অ্যামিবা’র সন্ধান দিলেন বিজ্ঞানীরা!

মানুষের মগজ খেকো এক অ্যামিবার খোঁজ! 1

বিজ্ঞানীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়ঙ্কর এক জীবাণুর সন্ধান পেয়েছেন। এই জীবাণু মানুষের শরীরে একবার ঢুকতে পারলে মস্তিষ্ক ধ্বংস করে দেয়। যার পরিনাম হবে নির্ঘাত মৃত্যু।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা ফ্লোরিডাতে এমন এক বিরল জাতের ‘অ্যামিবা’ সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছেন যেগুলো মানুষের মাথায় ঢুকে মাথার মগজ খেয়ে ফেলে! ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তি ‘নিগলেরিয়া ফাওলেরি’ নামে এই এককোষী প্রাণীর সংস্পর্শেও এসেছেন।

জানা গেছে, এই আণুবীক্ষণিক এককোষী ‘অ্যামিবা’ মূলত মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে ও এটি সাধারণত দ্রুত প্রাণঘাতি হয়ে উঠে। গরম মিষ্টি পানিতে বাস এই অ্যামিবা নাকের ভেতর দিয়ে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। তবে এটা একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায় না বলেও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

‘নিগলেরিয়া ফাওলেরি’ নামের এই অ্যামিবার সন্ধান ইতিপূর্বে পাকিস্তানে পাওয়া গিয়েছিলো। ২০১২ সালে দেশটিতে এই অ্যামিবার কারণে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটেছিলো। এই জীবাণুটি সাধারণত সাঁতারের সময় নাক দিয়ে প্রবেশ করে। বিজ্ঞানীরা এই অ্যামিবাকে ‘মগজ-খেকো’ বলে অভিহীত করে থাকেন।

বিপজ্জনক অ্যামিবার ব্যাপারে ফ্লোরিডার হিলসবরা কাউন্টির বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। তারা জনগণকে সতর্ক করে বলেছে যে, পানির কল বা অন্য কোনো উৎস হতে পানি যেনো কোনো মতেই নাকে প্রবেশ না করে। ইতিপূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে এই রোগটির সংক্রমণের ঘটনা ঘটলেও ফ্লোরিডাতে এটি বেশ বিরল।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই ‘নিগলেরিয়া ফাওলেরি’ পানির মাধ্যমে ছড়ায়। মস্তিষ্কে ঢুকে স্নায়ুকে ধ্বংস করে ফেলে। নদী, পুকুর, হ্রদ এবং ঝরনার পানি যেখানে উষ্ণ থাকে, সেখানে এই ধরনের অ্যামিবা বসবাস করে। এছাড়াও শিল্পকারখানার উষ্ণ পানি পড়ে এমন মাটি এবং সুইমিংপুলেও এই ধরনের অ্যামিবা থাকতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন যে, এই অ্যামিবা মস্তিষ্কে একবার ঢুকে পড়লে মারাত্মক কোনও উপসর্গই দেখা যায় না। প্রাথমিক অবস্থায় এর লক্ষণ থাকে হালকা মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, জ্বর, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব থাকে। সেইসঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যায় ও মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই আক্রান্ত রোগী মারা যায়। তথ্যসূত্র : বিবিসি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...