The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

মাত্র ৮৫ টাকায় পাওয়া যাবে করোনা ভাইরাসের ওষুধ!

করোনা ওষুধের এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে এবার ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু ওষুধের দাম কমাতে যাচ্ছে মুম্বাইয়ের গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনার ওষুধ নিয়ে যখন সবাই চিন্তিত তখন নতুন খবর হলো মাত্র ৮৫ টাকায় পাওয়া যাবে করোনা ভাইরাসের ওষুধ!

মাত্র ৮৫ টাকায় পাওয়া যাবে করোনা ভাইরাসের ওষুধ! 1

জানা গেছে, রেমডেসিভিরের দুই জেনেরিক ভার্সন সিপ্রেমি এবং কোভিফোরের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। এই দুই ওষুধের নির্মাতা সংস্থা সিপলা ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেটেরো ল্যাব দাম কমালেও একটি ভায়ালের (১০০ মিলিগ্রাম) দাম সেই ৫ থেকে ৬ হাজার রুপির মধ্যেই।

করোনা ওষুধের এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে এবার ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু ওষুধের দাম কমাতে যাচ্ছে মুম্বাইয়ের গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস।

জুন মাস হতেই ভারতের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ফ্যাভিপিরাভিরের জেনেরিক ভার্সন ফ্যাবিফ্লু। গ্লেনমার্ক জানিয়েছিল যে, ফ্যাভিফ্লু ওষুধের একটি ট্যাবলেটের দাম পড়বে ১০৩ রুপি।

সংস্থার পক্ষ হতে এবার জানানো হয়েছে, প্রায় ২৭ শতাংশ দাম কমানো হচ্ছে ওই ওষুধের। এখন ফ্যাভিপিরাভিরের এই ব্র্যান্ডের একটি ট্যাবলেটের দাম পড়বে মাত্র ৭৫ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৫ টাকার মতো)।

গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অলোক মালিক জানিয়েছেন যে, ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের বিক্রি অনেক লাভজনক হয়েছে। ভারতের বাজারে এই ওষুধের চাহিদাও আছে। তাই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের নির্মাতা হলো জাপানি কোম্পানি ফুজিফিল্ম। সে দেশে এই ওষুধের ব্র্যান্ড নাম ‘অ্যাভিগান’। তবে ফ্যাভিরাপিরাভির ওষুধের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু বানিয়েছে মুম্বাইয়ের এই কোম্পানি গ্লেনমার্ক। এই ওষুধের মূল উপকরণগুলো গ্লেনমার্কই তৈরি করে থাকে। বিদেশ থেকে এই ওষুধ তৈরির কোনো উপকরণই আমদানি করার প্রয়োজন হয় না।

সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশে এখন ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ডের যা দাম তার থেকে অনেক কম দামে ভারতের বাজারে ওই ওষুধের ব্র্যান্ড এনেছি আমরাও। এরপরেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা যায় যে, সাধ্যের মধ্যে এই ওষুদের দাম পড়লে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।’

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের উদ্যোগে করোনার সলিডারিটি ট্রায়ালে ফ্যাভিপিরাভিরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করে গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রথম দুই ট্রায়ালের রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ার কারণে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল হয় এই ওষুধের। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই করোনা চিকিৎসায় ফ্যাভিপিরাভিরের ব্র্যান্ড ফ্যাবিফ্লু প্রয়োগ করার ছাড়পত্রও দেয় ইন্ডিয়ান ড্রাগ কন্ট্রোল। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার জানিয়েছেন, মৃদু ও মাঝারি সংক্রমণের রোগীদের উপরেই জরুরি ভিত্তিতে ফ্যাভিপিরাভিরের থেরাপি করা সম্ভব।

গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর গ্লেন সালদানহা বলেছেন যে, ফ্যাবিফ্লু করোনা সংক্রমণ কমাতে সক্ষম। যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে করে এই ওষুধের প্রয়োগে কিছুটা হলেও তার রাশ টানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...