The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

গ্রাম-বাংলার তালগাছ হারিয়ে যেতে বসেছে

আকাশ ছুঁই ছুঁই সারি সারি তালগাছ সেই আদিকাল থেকেই গ্রাম-বাংলার শোভা বাড়িয়ে তুলেছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ চিরায়ত গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ‘এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ থাকা লম্বা লম্বা তালগাছগুলোর সম্পর্ক যেনো একই সুতোয় গাঁথা। গ্রাম-বাংলার সেই তালগাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।

গ্রাম-বাংলার তালগাছ হারিয়ে যেতে বসেছে 1

আকাশ ছুঁই ছুঁই সারি সারি তালগাছ সেই আদিকাল থেকেই গ্রাম-বাংলার শোভা বাড়িয়ে তুলেছে। তালগাছের পাতায় বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা বাতাসে দুলে দুলে গভীর মুগ্ধতাও ছড়িয়েছে। তাই প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যকে রক্ষায় ও শোভা সৃষ্টিতে সত্যিই তালগাছের জুড়ি মেলা ভার। তালগাছ শুধু শোভা ছড়িয়ে বসে থাকেনি। এর পাশাপাশি নিজেকে পুরোটাই বিলিয়ে দিয়েছে গ্রাম-বাংলার মানুষের নানা কাজে।

চিরকাল ধরেই তালগাছ তার বুক পেতে চিরসবুজ বাংলাদেশকে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে রক্ষা করেছে এবং বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর হার কমানোতে রেখেছে অপরিসীম ভূমিকা। তাই সব সময় তালগাছ ও এর বিভিন্ন অংশ জীবনের নানাবিধ চাহিদা মিটিয়ে আসছে। যেমন- তালপাতা দিয়ে ঘর ছাওয়া, হাতপাখা, চাটাই, মাদুর, লেখার পুঁথি, আঁকার পট, পুতুল ইত্যাদি তৈরি করা হয়ে থাকে। তালের কাণ্ড দিয়ে ভেলা বা নৌকা কিংবা ঘরের খুঁটি বানানো হয়।

সেই প্রাচীনকাল হতেই তালগাছ তার রস, ফল, বীজের শাঁস দিয়ে ভোজনরসিক বাঙালির রসনাবিলাসও করে আসছে। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি , সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রণ এবং ক্যালসিয়ামসহ নানা খনিজ উপাদান। তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি, তাড়ি ইত্যাদি তৈরি করা হয়ে থাকে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে কাঁচা তাল ফলের শাঁস খাওয়ার জন্য চারিদিকে হাক-ডাকও পড়ে যেতো। চলতো শাঁস খাওয়ার এক তুমুল প্রতিযোগিতা। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে তালগাছের তলায় গেলেই পাকা তালের সুবাসে মন যেনো জুড়িয়ে আসতো। এমনকি ভাগ্যে থাকলে দুই-চারটি পাকা তালও পাওয়া যেতো। গাছ থেকে ধপাস ধপাস শব্দে তাল পড়লে তা অনেক দূর থেকেই শোনা যায়। এই সময় পাকা তালের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠতো গ্রামের প্রতিটি বাড়ি।

আজ আর তেমনটা দেখা পাওয়া যায় না। তালগাছের পাতায় বাসা বানিয়ে হাজার হাজার বাবুই পাখির কিচির-মিচির ডাকের মনোরম দৃশ্যও এখন আর চোখে পড়ে না। তাই বর্তমানে দূর হতে ‘ঐ দেখা যায় তালগাছের’ চিত্রপট কবিতার মাঝে কল্পনা করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সকলকে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে, ইদানীং বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানীর সংখ্যা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। এর অন্যতম কারণই হলো, তালগাছের সংখ্যা কমে আসা। তাই পরিবেশের বলা যায় ভারসাম্যরক্ষাসহ অন্যান্য উপকার পেতে তালগাছের চারা রোপণ এবং সুরক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়।

লেখক: বেনজীর আহমেদ সিদ্দিকী, ফার্মাসিস্ট ও সমাজকর্মীর লেখা অবলম্বনে ভোরের কাগজ।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...