The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এক সময়ের পর্দা কাপানো নায়িকারা কেমন আছেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ষাটের দশকের পর নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র ছিলো মানুষের একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু এখন সেই দিনগুলো যেনো হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময়ের পর্দা কাপানো নায়িকারা কেমন আছেন তা জেনে নিন।

ষাটের দশকের পর নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র ছিলো মানুষের একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম। কিন্তু এখন সেই দিনগুলো যেনো হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময়ের পর্দা কাপানো নায়িকারা কেমন আছেন তা জেনে নিন।

শাবানা

ষাট হতে সব্বইয়ের দশক পর্যন্ত জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবানা। ওই সময় ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন তিনি। ১৯৬৭ সালে প্রথম অভিনয় করেন “চকোরী” নামে একটি চলচ্চিত্রে। সেই সময় ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তারপর থেকেই শুরু হয় নায়িকা শাবানা’র রুপালী পর্দায় রঙিন এক জীবন। ছবিটির পরিচালক ছিলেন দেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার এহতেশাম। তিনিই প্রথম রত্না নাম বদলে শাবানা নাম দিয়ে তাঁকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসেন।

চিত্রনায়িকা শাবানা তার চলচ্চিত্র জীবনে ৫ শতাধিকয়েরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ২৫টি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে তিনি ১১ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পরষ্কার পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি বাচসাসসহ অন্যান্য সংগঠনের অসংখ্য পুরষ্কার অর্জন করেছেন।

বর্তমানে শাবানা স্বপরিবারে আমেরিকাতে বসবাস করছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ২ কন্যা এবং ১ পুত্র সন্তানের জননী। গুনী এই শিল্পী ২০০০ সালে অভিনয় জগত হতে একেবারেই দূরে সরে যান। তখন থেকেই তিনি স্বপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করছেন। এরপর থেকে আর তিনি বিদেশেই রয়েছেন। তবে কিছুদিন আগে একবার দেশে এসেছিলেন। তবে দু’একটি অনুষ্ঠানে আসলে তেমনভাবে প্রকাশ্যে তিনি আসেননি। দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাসের কোনও ইচ্ছাও তার নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সর্বশেষ চলচ্চিত্রের নাম “ঘরে ঘরে যুদ্ধ”।

অলিভিয়া

সত্তরের দশকে চলচ্চিত্রে আসা জনপ্রিয় নায়িকা অলিভিয়া দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়েছেন। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় অলিভিয়ার সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দুশমনি’। তারপর থেকে এই অভিনেত্রী পর্দা বা বাস্তবে কখনও কারও মুখোমুখি হননি। অনেকটা নীরবে-নিভৃতেই কাটছে তার বর্তমান জীবন। প্রথম স্বামী চিত্রপরিচালক এস এম শফির মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র ছেড়ে দেন অলিভিয়া। তারপর বিয়ে করেন ফতুল্লার মুনলাইট টেক্সটাইল মিলের কর্ণধার হাসানকে।

বর্তমানে অলিভিয়া বসবাস করছেন বনানীর ডিওএসএইচ-এর বাড়িতে। ১৯৭২ সালে চিত্রনির্মাতা এস এম শফি তার ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’ ছবিতে প্রথম নায়িকা হিসেবে ব্রেক দেন অলিভিয়াকে। সেই সময় প্রায় ৫৩টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই জননন্দিত অভিনেত্রী।

ববিতার পরই অলিভিয়া ছিলেন একমাত্র নায়িকা যিনি তখন কোলকাতার ছবিতেও অভিনয় করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তার কোলকাতার ছবির নাম ‘বহ্নিশিখা’। এই ছবির নায়ক ছিলেন উত্তম কুমার।

জয়শ্রী কবির

চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির এমন একজন বাঙালি অভিনেত্রী যিনি চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়ের মাধ্যমে অভিনয় জগতে আসেন। ১৯৭০ সালে অভিনয় করেন সত্যজিত রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবিতে। ১৯৬৮ সালে জয়শ্রী মিস ক্যালকাটা উপাধি লাভ করেন।

এই অভিনেত্রী আসেন ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে। ওই বছর ‘সূর্য কন্যা’ নামে ঢাকার একটি ছবিতে অভিনয় করেন। ছবির পরিচালক আলমগীর কবিরকে বিয়ে করে এদেশেই থেকে যান। যে কারণে তার পদবী জয়শ্রী রায় থেকে জয়শ্রী কবির হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় একযুগের মতো তিনি এদেশের চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেন।

আশির দশকের মধ্যভাগে এসে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি কোলকাতাতে চলে যান। আলমগীর কবির ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি মারা যাওয়ার পর একমাত্র সন্তান লেনিন সৌরভ কবিরকে নিয়ে জয়শ্রী তখন চলে যান লন্ডনে। লন্ডনের সিটি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষাদান শুরু করেন তিনি। তারপর থেকে আর তাকে কোনো ছবিতে বা প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি।

অঞ্জু ঘোষ

চিত্রনায়িকা অঞ্জু ঘোষকে চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠার কারিগর হলেন এফ কবির চৌধুরী। ১৯৮২ সালে অঞ্জু ঘোষকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসেন তিনি। তার প্রথম ছবি ‘সওদাগর’ হিট হওয়ার পর এফ কবির চৌধুরী অঞ্জুকে অভিনয় করালেন নরম গরম, আবেহায়াত, পদ্মাবতীসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে। তারপর অভিনয় করেন বড় ভালো লোক ছিল, আশীর্বাদ, রাই বিনোদিনী, আশা নিরাশা, আয়না বিবির পালা, রক্তের বন্দী, নবাব সিরাজউদ্দৌলা, পদ্মগোখরা ইত্যাদি নানা গল্প এবং চরিত্রের সফল চলচ্চিত্রগুলোতে। ১৯৮৯ সালে আসে অঞ্জু ঘোষের বড় মাপের সাফল্যের মাহেন্দ্রক্ষণ। মুক্তি পায় ‘বেদের মেয়ে জোছনা’। ঢালিউডের ইতিহাসে এর ব্যবসায়িক সাফল্যের রেকর্ড এখনও কোনো চলচ্চিত্র অতিক্রম করতে পারেনি।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সাইদুর রহমান সাইদ তাকে নিয়ে ১৯৯৫ সালে ‘নেশা’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্রের নির্মাণ শুরু করেন। তবে বিভিন্ন নির্মাতা ও স্থানীয় মাস্তানদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে অঞ্জু ঘোষের ওপর। তারা তাকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করলে ১৯৯৬ সালে বাধ্য হয়ে সপরিবারে কোলকাতা চলে যান অঞ্জু ঘোষ। বর্তমানে কোলকাতায় মাঝে মধ্যে দু’একটি ছবিতে অভিনয় করেন।

রোজিনা

অভিনেত্রী রোজিনার প্রকৃত নাম হলো রওশন আরা রেনু। রোজিনার জন্ম রাজবাড়ীতে। ছাত্রী অবস্থাতেই ঢাকায় মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। সত্তরের দশকে প্রথমে একটি জন্মনিয়ন্ত্রণের বিজ্ঞাপনে মডেল হন তিনি। তারপর ১৯৭৬ সালে কালিদাসের ‘জানোয়ার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চিত্রজগতে অভিষেক ঘটে রোজিনার। টানা ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেন এই অভিনেত্রী। এর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন রোজিনা। অর্জন করেছেন দুবার জাতীয় পুরস্কারসহ বেশ কবার বাচসাস, প্রযোজক সমিতি এবং পাকিস্তানের নিগার অ্যাওয়ার্ডও।

আশির দশকে প্রযোজক ফজলুর রশিদ ঢালির সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন রোজিনা। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...