The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অর্ধেক পুরুষ ও অর্ধেক নারী এমন এক পাখির গল্প!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বিরল পাখির খোঁজ পাওয়া গেছে, যার শরীরের অর্ধেকটা নারী এবং অর্ধেকটা-পুরুষের মতোই মনে হচ্ছে!

অর্ধেক পুরুষ ও অর্ধেক নারী এমন এক পাখির গল্প! 1

বিশেষ এই পাখিটির নাম নর্দার্ন কার্ডিনাল। এই পাখির পুরুষ কিংবা নারী প্রজাতির ছবি আলোকচিত্রীদের ফ্রেমবন্দি হলেও, এবার ঠিক এর মিশ্র লিঙ্গের ছবি ধরা পড়েছে।

পাখি বিশেষজ্ঞ জেমি হিল যখন তার এক বন্ধুর কাছ থেকে এই পাখির বিষয়ে জানতে পারেন, তৎক্ষণাৎ তিনি তার ক্যামেরা নিয়ে ছুটে যান। তিনি বিরল এই পাখির ছবি ধারণ করেন। যদিও এবারই প্রথম তা নয়, তবে এটি নিশ্চিত যে, মিশ্র লিঙ্গের পাখি সত্যিই বিরল।

পুরুষ কার্ডিনাল পাখিগুলো সাধারণতভাবে উজ্জ্বল লাল রঙের হয়ে থাকে এবং নারী কার্ডিনালগুলো হয়ে থাকে ফ্যাকাসে বা অনেকটা বাদামি রঙের। তাই এই পাখিটি দুটি লিঙ্গের মিশ্রণও হতে পারে। ৬৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত পাখিবিদ জেমি হিল এই বিষয়ে বলেছেন, এমন মুহূর্ত “সারাজীবনে শুধু একবারই পাওয়া যায়, লাখে একটা এমন ঘটনা ঘটে”।

নর্দার্ন কার্ডিনাল পাখির পুরুষ প্রজাতি লাল রঙের হয়ে থাকে আর নারী ধুসর ফ্যাকাশে রঙের হয়ে থাকে

জেমি হিলের এক বন্ধু তাকে জানান যে, তিনি পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ওয়ারেন কাউন্টিতে তার পাখিকে খাওয়ানোর জন্য রাখা বার্ড ফিডারে একটি অন্য ধরনের পাখি দেখেছেন। প্রথমে হিল ভেবেছিলেন যে, পাখিটি হয়তো লুইসিস্টিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে- লুইসিসস্টিকে আক্রান্ত পাখির পালকগুলো রঙ হারিয়ে ফেলে বা বর্ণহীন হয়ে পড়ে।

তাই এই পাখিটিও হয়তো রঙ হারাতে শুরু করেছে। এই নর্দার্ন কার্ডিনাল পাখিটির শরীরের একটি অংশ নারীদের মতোই, আরেকটি অংশ ঠিক পুরুষের মতো। যাই হোক, পাখিটির অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ হবে বলে তিনি শুরুতেই ধারণা করেননি।

তবে তার বন্ধুর মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি দেখার পর তিনি ধারণা করেন যে, এই পাখিটির বাইলেটারাল গাইনানড্রোমোর্ফিজমও থাকতে পারে। যার কারণে একটি পাখির কার্যকরী ডিম্বাশয় ও কার্যকরী একক শুক্রাশয় দুটোই থাকে। পরে তিনি সেই বাড়িতে যান যেখানে কার্ডিনাল পাখিটিকে দেখা গিয়েছিল। এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি বিরল সেই পাখির দেখাও পান এবং তাৎক্ষণাত ছবি তুলতেও সক্ষম হন।

জেমি হিল ব্যাখ্যা করেন ঠিক এভাবে, “ছবিগুলো তোলার পর, আমার হৃদয়টা যেনো পরবর্তী ৫ ঘণ্টা ধরে ধক ধক করে কাঁপছিলো। যতোক্ষণ পর্যন্ত না বাসায় এসে ডিজিটাল ছবিগুলো প্রসেস করতে পারছিলাম যে আমার কাছে কী ছবি রয়েছে, সেটা দেখার আগ পর্যন্ত আমি স্বাভাবিক হতে পারিনি।”

জেমি হিল বলেন, “আমি প্রায় দুই দশক ধরে আইভরি বিল্ড কাঠঠোকরা পাখি খুঁজে ফিরছি, যা দীর্ঘ সময় ধরেই বিলুপ্ত। অথচ এই বিরল পাখিটির ছবি পেলাম আমার পরিচিত উঠোনেই!”

আমি যদি সত্যিই ওই কাঠঠোকরার ছবি তুলতে পারতাম তাহলে ভেতরে ভেতরে আমার যে ধরনের উত্তেজনা হতো, এই গাইনানড্রোমর্ফ নর্দার্ন কার্ডিনালের ছবি তুলে আমারও একই অনুভূতি হয়েছে। অর্ধেক-নারী, অর্ধেক-পুরুষ পাখি খুবই বিরল। ওয়েস্টার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রায়ান পিয়ার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইলেটারাল গাইনানড্রোমর্ফ নর্দার্ন কার্ডিনাল পাখি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন যে, কিছু প্রজাতির মধ্যে এমনটা থাকলেও সেটি ধরা নাও পড়তে পারে। “কোষ বিভাজনের সময় ত্রুটির কারণেই একটি পাখির বাইলেটারাল গাইনানড্রোমর্ফও হতে পারে।”

তিনি জানিয়েছেন, “একটি ডিম ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত অঙ্গ পৃথক পৃথক শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। যে কারণে জন্ম নেওয়া পাখিটি নারী ও পুরুষের দ্বৈত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়েছে।”

এই সম্ভাব্য গাইনানড্রোমর্ফ নর্দার্ন কার্ডিনাল পাখিটি ওই অঞ্চলে এবারই প্রথম দেখা গেছে তা কিন্তু নয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অনুসারে, ২০১৯ সালে এক দম্পতি এইরকম একটি পাখির দেখা পান। জেমি হিল ধারণা করছেন যে, তিনি যে কার্ডিনাল দেখেছেন তা একই পাখিও হতে পারে।

অধ্যাপক ব্রায়ান পিয়ার উল্লেখ করেছেন যে, উত্তর আমেরিকায় নর্দার্ন কার্ডিনালগুলি খুবই সাধারণ ফিডার পাখি। অর্থাৎ মানুষের উঠোনে রাখা পাখিদের খাবারের ঘর কিংবা বার্ড ফিডারেই এদের দেখা যায়।

অধ্যাপক ব্রায়ান পিয়ার বলেন, “এই পাখিগুলো পুরুষ ও নারী প্রজাতির চেহারা এতোটাই পৃথখ যে, এটি যে একটি গাইনানড্রোমর্ফর পাখি সেটি বের করা খবই সহজ।” তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...