The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তার বাক-বিতণ্ডা: বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রশ্ন [ভিডিও]

কিন্তু আসল ঘটনা কী? তা জানুন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গতকাল মহিলা চিকিৎসক- পুলিশের সঙ্গে বাক বিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি দেখে প্রাথমিকভাবে অনেকেই চিকিৎসককে দায়ি করেছেন। কিন্তু আসল ঘটনা কিন্তু তা নয়। যার কিছু যুক্তি এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।

চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তার বাক-বিতণ্ডা: বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রশ্ন [ভিডিও] 1

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. সাইদা সওকত জেনি হেনস্থার ঘটনাটি গতকাল টিভি চ্যানেলেও প্রকাশ পেয়েছে। গতকাল (রবিবার) বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোসাল মিডিয়াতে প্রকাশ পাওয়ার পর সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

আসলে ওই ঘটনায় পুলিশ ইনস্পেকটর বা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কী ভুল ছিলো? বিষয়টি সম্পর্কে আমরা বিভিন্নভাবে বিশেষ করে ফেসবুকসহ নানা গণমাধ্যমের ভিডিও ও ছবি পর্যালোনা করে বিষয়টি পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি। তাহলে কার দোষ ছিলো সেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

অনেকেই প্রশ্ন করেছেন ওই মহিলা ডাক্তার কেনো এমন আচরণ করলেন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে। তবে আমরা দেখেছি মহিলা চিকিৎসকের হয়তো এমন আচরণ করাটি মোটেও ঠিক হয়নি। তবে সবকিছু ঠিক থাকার পরেও কেনো তাকে গাড়ি থেকে নামতে হলো এবং এমন আচরণ করতে হলো সেটিই দেখার বিষয়। পুলিশ বার বার উনার পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছেন। কিন্তু দেখা গেছে ওই চিকিৎসকের গায়ে রয়েছে এ্যাপ্রোন, যেখানে বিএমএ’র ষ্টিকার লাগানো ছিলো। তার গাড়িতেও বিএমএ’র ষ্টিকার লাগানো ছিলো। নিম্নে কিছু প্রশ্ন আকারে (যা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন) তুলে ধরা হলো:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার লাগানো গাড়িতে বসা চিকিৎসকের পোষাক পরিহিত একজন ভদ্রমহিলার আই ডি কার্ড না থাকা কি প্রমাণ করে তিনি একজন চিকিৎসক নন?

প্রশ্ন করা হয় যে, গাড়িতে যদি সচিবালয়ের স্টিকার লাগানো থাকতো এবং গাড়িতে একজন যুগ্মসচিব অথবা ম্যাডাম আইডি কার্ড ছাড়া অবস্থান করতেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যগণ কী একই আচরণ করতেন?

আরও প্রশ্ন করা হয় যে, গাড়িটিতে যদি অফিসিয়াল স্টিকার নয় সাদা কাগজে টাইপ করা “পুলিশ” লেখা থাকতো বা কোনো কিছু লেখা ছাড়াই গাড়ির ভিতরে পুলিশের পোষাক পরা একজন মহিলা কর্মকর্তা বসা থাকতেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যগণ কী তাহলে একই আচরণ করতেন?

এতে আরও প্রশ্ন রাখা হয় যে, একজন সহযোগী অধ্যাপক তিনি যদি সিনিয়র হয়ে থাকেন তাহলে তিনি যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন অফিসার। এই পদমর্যাদার একজন অফিসার গাড়িতে (যাতে তার অফিসের স্টিকার লাগানো রয়েছে) ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় থাকলে কী ওই দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলতেন? তাঁর গাড়ির স্টিকার দেখে এবং গাড়ির বাইরে থেকে তাঁর মুখে পরিচয় শুনেই তো তাঁকে সসম্মানে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিলো।

চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তার বাক-বিতণ্ডা: বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রশ্ন [ভিডিও] 2

যে কারণে এই ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে ইচ্ছাকৃত হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ এখানে ওই অফিসারের উচিত ছিলো যখন তিনি গাড়িটি থামিয়ে দেখলেন তাতে স্টিকার লাগানো এবং পরিচয় বহন করে বিএমএ’র ষ্টিকারও রয়েছে সেখানে তাকে থামিয়ে পরিচয় পত্র চাওয়া এবং তাকে গাড়ি থেকে নামাতে বাধ্য করার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। যদিও এই সময় কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট খুবই শালিন আচরণ করেছেন। তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকেও বার বার থামানের চেষ্টা করেছেন। তাতে দেখা যায় একজন পদস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যবহারটি ঠিকই ছিলো। তবে পুলিশ কর্মকর্তার ব্যবহারটি কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিলো না। বর্তমান এই করোনা মহামারির সময় পুলিশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জাতি তাদের কাছে অবশ্যই কৃতজ্ঞ। তবে কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীকে দোষারোপ করা মোটেও ঠিক হবে না।

হয়তো অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন ওই মহিলা চিকিৎসক পুলিশের সঙ্গে কেনো এমন আচরণ করলেন? তবে এটিও ঠিক ওই মহিলা চিকিৎসকের জোর আছে দেখে বা উনি শক্তি প্রদর্শন করে বের হতে পেরেছেন৷ তা না হলে হয়তো সাধারণ মহিলা সেজে থাকলে উনাকে আরও অনেক হেনস্থার শিকার হতে হতো।

লক ডাউনের এই সময় আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যারা রাষ্ট্রের জরুরি সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন তাদের মুভমেন্টে সাহায্য করা, তাদের কাজ আরও স্মুথ করা৷

একজন চিকিৎসক হচ্ছেন বর্তমান করোনা মহামারির এই সময় প্রথম সারির যোদ্ধা। তাদেরকে আমরা জাতিগতভাবে শ্রদ্ধা ও কুর্ণিশ জানায়। কিন্তু সেই সব চিকিৎসকদের সম্মান না জানিয়ে যদি হেনস্থা করা হয় তাহলে সেটি হবে জাতির জন্য সত্যিই কলংকজনক অধ্যায়।

দেখুন ভিডিওটি

ভিডিও সূত্র: মানবজমিন (ফেসবুক পেইজ)

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...