The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পুরুষ নির্যাতন: জার্মানিতে হেল্পলাইনে ফোনের বন্যা!

অন্ততপক্ষে ৪ ভাগের মধ্যে ৩ ভাগ কলই করেছেন ৫১ বছরের নীচের পুরুষরা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এমন এক কাণ্ড ঘটবে তা কেওই চিন্তা করেনি। বিশ্বজুড়ে যেখানে মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা দিনকে দিন বাড়ছে, সেখানে করোনাকালে ঘর গার্হস্থে হিংসা আরও বেড়েছে। যা ঘটেছে এবার জার্মানিতে।

পুরুষ নির্যাতন: জার্মানিতে হেল্পলাইনে ফোনের বন্যা! 1

এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জার্মানিতে পুরুষদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সংক্রান্ত হেল্পলাইনে ফোনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে সেখানে এক হাজার ৮০০-রও বেশি ফোন এসেছে। এই অবস্থা দেখে কর্তৃপক্ষ হেল্পলাইন খোলা থাকার সময়ও আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। খবর ডয়চে ভেলের।

জার্মানির দুইটি রাজ্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া এবং বাভারিয়ায় এই হেল্পলাইন খোলা হয়। বর্তমানে বাডেন-ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্যও এতে সামিল হতে চলেছে। এই রাজ্যের সামাজিক ন্যায় মন্ত্রী বলেছেন যে, ”যে কোনো ধরনের সহিংসতাই জনসমক্ষে আনা দরকার।” ওই মন্ত্রীর মতে, ”পুরুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা এখনও ট্যাবু হয়েই থেকে যাচ্ছে। এটা পুরুষদের কাছে লজ্জার বিষয় বলে মনে করা হয়।”

কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, এই হেল্পলাইন সামাজিক সাহায্য ব্যবস্থায় যে ঘাটতি ছিল তা পূরণও করছে। নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়ার সমানাধিকার মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ”এটির কারণে পুরুষরা তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা হলে তা স্বীকারও করে নিচ্ছেন। তারা ভয় এবং লজ্জাকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারছেন। তার ধারণা মতে, ”মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো পুরুষদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে খোলাখুলিভাবে কথা বলা হোক।”

এই হেল্পলাইন কারা ব্যবহার করছেন?

এই হেল্পলাইন চালু হওয়ার পর এক হাজার ৮২৫টি কল এসেছে। প্রতিদিন ৬ থেকে ৯টি কল আসে। ৩৫ শতাংশ কল আসে নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া হতে। এটাই জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল একটি রাজ্য। বাভারিয়া হতে আসে ১৮ শতাংশ কল। বাকি কল জার্মানির অন্য রাজ্যগুলো হতে এসেছে।

এক সমীক্ষা বলছে যে:

অন্ততপক্ষে ৪ ভাগের মধ্যে ৩ ভাগ কলই করেছেন ৫১ বছরের নীচের পুরুষরা।
৫৩ শতাংশ পুরুষ শারীরিক কিংবা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
আর ৮৫ শতাংশ পুরুষ অভিযোগ করেছেন মানসিক নির্যাতনের।
অপরদিকে ৭০ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, তারা খুবই সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে আছেন।
৩ ভাগের মধ্যে ২ ভাগ অভিযোগকারী নিজেই ফোন করেছেন। ১০ ভাগের ১ ভাগ ক্ষেত্রে আশপাশের মানুষ কিংবা পরিচিতরা ফোন করেছেন। বাকি ফোন এসেছে পেশাদার পরামর্শদাতাদের নিকট হতে।
অধিকাংশ অভিযোগই করা হয়েছে তাদের বর্তমান বা সাবেক জীবনসঙ্গীদের বিরুদ্ধে।

কীভাবে এর পরিষেবা বাড়ছে

হেল্পলাইনের উদ্যোক্তারা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে, তারা এই পরিষেবা আরও বাড়াচ্ছেন। আরও পেশাদারদের নেওয়া হচ্ছে। কাজের সময়ও বাড়ানো হচ্ছে। সকাল ৮ টা হতেই হেল্পলাইন চালু হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আবার অনলাইন পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...