The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ইউরিক এসিড সম্পর্কে যা আমাদের অজানা

উচ্চমাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের কারণে গেঁটে বাত কিংবা গিরায় গিরায় ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ইউরিক এসিড সম্পর্কে আমাদের আসলে তেমন একটা জানা নেই। তবে এই বিষয়টি আমাদের জেনে রাখা অত্যন্ত দরকার। আজ এই ইউরিক এসিড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উচ্চমাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের কারণে গেঁটে বাত কিংবা গিরায় গিরায় ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যে কিছু জিনিস রয়েছে যেগুলোতে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ অনেক বেশি। আবার কিছু পুষ্টিকর খাবার রয়েছে যেগুলো ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে ওষুধের মতোই কাজ করে।

বেশি পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ খেলে বা অ্যালকোহল জাতীয় খাবার বেশি খেলে দেহে পিউরিন নামক নন এসেনসিয়াল এমাইনো এসিড তৈরি হতে পারে। এই পিউরিন থেকেই ইউরিক এসিড তৈরি হয়ে থাকে। এই ইউরিক এসিড প্রথমেই রক্তে চলে যায়। সেখান থেকে কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে তখন দেহ থেকে বের হয়ে যায়। রক্তে যদি ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায় তাহলে এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারইউরিসেমিয়া।

এই ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়াটাকে মেটাবলিক সিনড্রোমের অংশ বলা হয়ে থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল-ট্রাইগ্লিসারাইড ও ডায়াবেটিস থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। তার উপরে যদি নিকট আত্মীয়দের কারও এই সমস্যা কিংবা কিডনি স্টোন, গাউটের সমস্যা থাকে, তাহলে সেই রোগীর ইউরিক অ্যাসিডজনিত সমস্যা অধিক মাত্রায় হতে দেখা যেতে পারে।

আবার জীবন শৈলী সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও ইউরিক অ্যাসিডের আশঙ্কা থাকে। সেজন্যই লিপিড প্রোফাইল হাই থাকলে ইউরিক অ্যাসিড টেস্ট করে বহু ক্ষেত্রে ইউরিক অ্যাসিড বেশি পাওয়া যায়। যদি কারও ক্ষেত্রে রক্তে সুগার, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের হার যদি বেশি থাকে তাহলে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে, তাহলেও ১/২ বছর অন্তর ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করানো দরকার।

মাত্রাতিরিক্ত ইউরিক এসিড দেহে কী কী ক্ষতি করে?

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অংগ বিশেষ করে কিডনির উপরে দীর্ঘদিন জমলে রেনাল স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেশি থাকে। যে কারণে কিডনি ঠিক মতো কাজ করে না এবং মুত্রের মাধ্যমে ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য বর্জ্য শরীর হতে বের হতে পারে না। কিডনির কার্যক্ষমতাও নষ্ট হয় এবং কিডনি ড্যামেজও হতে পারে। তাছাড়াও বাড়তি ইউরিক এসিড শরীরের হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টে ক্রিস্টাল -এর মতো হয়ে জমে যায়, যাতে করে অনেক রোগীর হাড়ের সন্ধিস্থল ফুলে যায় ও খুব ব্যাথাও হয়। এই রোগের নামই হলো গাউট কিংবা গেটে বাত। সোডিয়াম এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এর ভুমিকা থাকায় হাইপ্রেশার কিংবা উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়াও অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতাসহ হার্ট ডিজিজ এর সম্ভাবনাও অনেকাংশে বেড়ে যায়।

স্বাভাবিক অবস্থায় নারীদের ক্ষেত্রে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা হলো ২.৪ হতে ৬.০ মিলিগ্রাম পার ডিএল ও পুরুষের ক্ষেত্রে ৩.৪ হতে ৭.০ মিলিগ্রাম পার ডিএল।

ইউরিক এসিড বৃদ্ধিতে কোন ধরনের খাবার খাবেন ও কোনগুলো খাবেন না

যেসব খাবার পরিহার করা লাগবে

# অর্গান মিট অর্থাৎ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংস যেমন: কলিজা, মগজ, জিহ্বা, ফুসফুস, কিডনি ইত্যাদি মোটেও খাওয়া যাবে না। কারণ এগুলো ইউরিক এসিড বাড়াতে সাহায্য করে।

# অধিক চর্বি রয়েছে এমন গরুর মাংস, খাসির মাংস, ভেড়ার মাংস কিংবা মহিষের মাংসও খাওয়া যাবে না। কারণ এসব খাবারে ইউরিক এসিডের মাত্রা অধিক থাকে। এসব মাংস যদি খেতে চান তাহলে একেবারেই চর্বি ছাড়া মাংস অল্প করে খেতে হবে।

# সামুদ্রিক মাছ ও শক্ত খোসাযুক্ত প্রাণী যেমন- চিংড়ি, শামুক, কাঁকড়া ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

# সব ধরনের ডাল, মটরশুটি, সিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদি খাওয়াও পরিহার করতে হবে।

# মধু, চিনির সিরাপ, চিনিযুক্ত পানীয়, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত ফলের জুস, কোমল পানীয় কোনো অবস্থাত্ডেি খাওয়া যাবেনা।

# কিছু কিছু শাকসবজি রয়েছে যেমন- পালংশাক, পুঁইশাক, ব্রকোলি, ফুলকপি এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়াও মাশরুম খাওয়া যাবে না।

# চিনিযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহোল ও ক্যাফেন জাতীয় পানীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

যেসব খাবার বেশি বেশি খেতে হবে

# অধিক আঁশযুক্ত খাবার যেমন: সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল। এই আঁশযুক্ত খাবার শরীর হতে ইউরিক এসিড মল আকারে বের করে দিতে সাহায্য করে।

# চর্বি নেই এমন মাংস খেতে হবে। এক্ষেত্রে মুরগির মাংস ভালো। তবে চামড়া ও পাখনা কখনও খাওয়া যাবে না। কারণ হলো এতে প্রচুর পরিমাণ চর্বি থাকে। তাছাড়াও পরিমাণ মতো মাছ ও কুসুম ছাড়া ডিমও খাওয়া যাবে। ফ্যাট ছাড়া দুধ কিংবা স্কিম মিল্কও খেতে বাধা নেই।

# চাহিদার তুলনায় আরও বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আড়াই হতে ৩ লিটার পানি পান করবেন। পানি দেহের যে কোনো ধরনের বিষকে দূর করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে পানি।

# আর বেশি বেশি করে টক ফল বা ভিটামিন-সি জাতীয় খাবারও খেতে হবে। গ্রিন টি ইউরিক এসিড কমাতে সহায়তা করে থাকে। তাই ইউরিক এসিড কমাতে নিয়মিত গ্রিন টি খেতে করতে পারেন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...