The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শিকলে বাঁধা সিরীয় ক্যাম্পের সেই ক্ষুধার্ত শিশুর মৃত্যু

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কয়েক মাস আগে একটি ছবি প্রকাশিত হয়। মাথায় হালকা খয়েরি রাঙের চুল, মুখে-জামায় ময়লার ছোপ, ছোট্ট দুটো হাত বাঁধা রয়েছে শেকলে! সেই দৃশ্য দেখে বুক কেঁপে ওঠে। সেই শিকলে বাঁধা সিরীয় ক্যাম্পের সেই ক্ষুধার্ত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শিকলে বাঁধা সিরীয় ক্যাম্পের সেই ক্ষুধার্ত শিশুর মৃত্যু 1

নাহলা আল ওথমান নামে ওই শিশু মূলত বাস্তুচ্যুত এক শিশুকন্যা। সিরিয়ার ক্যাম্পে তার বাবা এবং ভাইবোনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বন্দি ছিলো। শিশুমন বারবার শিবিরের বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইতো। মেয়ের এই আস্পর্ধা সহ্য করতে পারতেন না তার বাবা। সে কারণে প্রায়শই তাকে শেকলে বেঁধে খাঁচায় আটকে রাখতেন!

ক্যাম্পটির সুপারভাইজার হিসাম আলি ওমর বলেছেন, ‘সারা ক্যাম্প ঘুরে বেড়ানো আটকাতেই তার বাবা তার হাত বা পায়ে শিকলে বেঁধে রাখতেন। আমরা একাধিকবার তাকে শিকল খুলে দিতে এবং খাঁচায় আটকে না রাখতে বলেছি, তবে বরাবরই তিনি অস্বীকার করেছেন।’

চরম বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে মে মাসে নাহলার জীবন শেষ হয়ে গেলো। চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় দ্রুত খাওয়ার সময় মারা যায় ৬ বছর বয়সী শিশুটি। শিকলে বাঁধা ও খাঁচায় আটকে থাকার ছবিটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে তার বাবাকে আটক করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ওই খাঁচাটি সিরিয়ার লাখ লাখ শিশুর দুর্ভোগের বিষয়ে মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছে। গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতার কবলে পড়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই ধরনের লাখ লাখ শিশু সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষুধা ও শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত এইসব শিশু চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে বেঁচে থাকতেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

দাতব্য গোষ্ঠী সেভ দ্য চিলড্রেন-এর মুখপাত্র আহমাদ বায়রাম বলেছেন, ‘আমরা সেইসব শিশুদের নিয়েই কথা বলছি যাদের জন্ম তাঁবুতে, প্রথম বৃষ্টির পর যা নতুন বিপদ হয়ে ওঠে। তারা ভুলেই গেছে স্বাভাবিক জীবন কেমন হয়।’

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার ফারজাল্লাহ ক্যাম্পে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতো ওই শিশু নাহলা। ওই এলাকার ৪২ লাখ বাসিন্দার প্রায় অর্ধেক নাগরিক যুদ্ধের সময় এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আশ্রয় গ্রহণ করেছে অস্থায়ী শিবিরে।

সেখানকার দাতব্য গোষ্ঠীগুলো বলছে, ক্যাম্পগুলোর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হয়ে উঠছে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। অনেক শিশুই পরিবারকে সহায়তা দিতে কাজ করছে যে কারণে অপুষ্টির হার ক্রমেই বাড়ছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে যে, উত্তর সিরিয়ান শিশু ও অল্প বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও দিনকে দিন বাড়ছে। মুখপাত্র আহমাদ বায়রাম আরও বলেন, ‘আমরা ১১ বছর বা আরও কম বয়সীদেরও আত্মহত্যা করতে দেখছি!’

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...