The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বর্ষায় রোগ-বালাই এবং এর প্রতিকার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ করোনা ভাইরাসের মধ্যেই এসেছে বর্ষাকাল। বর্ষা মানেই নানা রোগের লক্ষণ। ঠাণ্ডা-সর্দি জ্বরসহ অন্যান্য রোগ-বালাই তো লেগেই থাকে এই সময়। বর্ষায় রোগ-বালাই এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে আজ আলোচনা করা হবে।

করোনা মহামারির সময় যদি নানা রোগ হানা দেয় তাহলে শঙ্কা যেনো আরও বেড়ে যায়। সে কারণে আগে থেকেই সকলের সতর্ক থাকা দরকার।

ঠাণ্ডা ও জ্বর

বর্ষাকালে দিনে-রাতে তাপমাত্রা ওঠানামা হয়। তাই এই সময় হঠাৎ করেই মানব দেহে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে। তাই এই সময় ঠাণ্ডা লাগা এবং জ্বর হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। বর্ষাকালে যতোটা সম্ভব পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। এতে করে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ও অসুখের ঝুঁকিও কমবে।

ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু হলে

বর্ষার সময় ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু এই দুটি রোগ বেশি দেখা যায়। বর্ষার জমে থাকা পানিতে ম্যালেরিয়া মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অপরদিকে ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতি রোগও মশার কামড় থেকেই হয়ে থাকে। বর্ষাকালে বাড়ির আশপাশে যেনো কোথাও পানি জমে থাকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সকলকে। প্রয়োজনে রাতে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কলেরা ও আমাশয়

বর্ষায় পানিবাহিত রোগ হবে সেটি নতুন কিছু নয়। কলেরা-আমাশয় এর মধ্যেই পড়ে। এতে ডি-হাইড্রেশন, ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। বর্ষায় সম্ভব হলে ফিল্টার করা পানি পান করাই উত্তম। যাদের ফিল্টার নেই তারা পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে তবেই পান করতে হবে। এছাড়াও বর্ষায় বাইরের খাবার খাওয়ার সময় অবশ্যই খাবার তৈরির পরিবেশের দিকে সকলকে নজর দিতে হবে।

টাইফয়েড বা হেপাটাইটিস

খাবার এবং পানি থেকে বর্ষায় টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। হেপাটাইসিসের কারণে লিভারের ক্ষতিও হয়। জ্বর, বমি এবং চুলকানির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষায় বাইরের খাবার যতোটা সম্ভব না খাওয়ায় ভালো। যদিও কখনও খেতে হয় তবে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Loading...