দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন ডি রয়েছে কাঠবাদামে। যেগুলো হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করে। এছাড়াও আখরোটে রয়েছে ভিটামিন বি৬, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ম্যাঙ্গানিজ়ের মতো খনিজও।

কাঠবাদাম ও আখরোট, দু’টিই শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও দু’ধরনের বাদামই খেতে বলেন পুষ্টিবিদরা। যদিও হাড়ের জন্য কাঠবাদাম সবচেয়ে বেশি কাজের। কারণ হলো, এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন ডি, যেগুলো হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করে। আখরোটে রয়েছে ভিটামিন বি৬, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ম্যাঙ্গানিজ়ের মতো খনিজ, যেগুলো মস্তিষ্কের স্নায়ুর জন্যও ভালো। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলাই যদি লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে শিশু কিংবা বয়স্কদের আখরোট খাওয়ার উপর বিশেষভাবে জোর দিতে হবে।
পুষ্টিবিদদের মতে, বুদ্ধিতে শান দেওয়ার জন্য দু’ধরনের বাদাম ভালো। তবে পুষ্টিগুণ বিচার করলে কাঠবাদামের চেয়ে আখরোটকে একটু বেশিই এগিয়ে রাখতে হবে। কারণ হলো, কাঠবাদামের দ্বিগুণ পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে এই আখরোটে। এই উপাদানটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।
কী কী রয়েছে আখরোটে?
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের উৎসই হলো আখরোট। শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালের সমতা বজায় রাখে এই উপাদানটি। যে কারণে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও নিয়ন্ত্রণে থাকে। মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখাও সহজ হয়। এ ছাড়াও আখরোটে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে, যা স্নায়ুতন্ত্রের কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করতেও সাহায্য করে।
যেমন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যাওয়া কিংবা স্মৃতি লোপ পাওয়ার প্রবণতাও তৈরি হয়। যা ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার্স কিংবা পার্কিন্সন্সের আকার নেওয়ার পূর্বেই রুখে দেওয়া যেতে পারে- যদি নিয়মিতভাবে আখরোট খাওয়ার অভ্যাস থাকে। অপরদিকে কাঠবাদামে রয়েছে রাইবোফ্লোভিন ও এল-কারনাইটিনের মতো উপাদান। এগুলোও মস্তিষ্কের স্নায়ুর কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে থাকে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org