দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জীবনের এই পর্বে একটু বুদ্ধি করে চলতে পারলে সম্পর্ক মধুরও হতে পারে। সন্তান হওয়ার পরেও দাম্পত্যের রং অটুট রাখতে মেনে চলুন এই কয়েকটি উপায়।
সন্তান জন্মের পর স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্কে নানা বদলও আসে। আবার সন্তানকেই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দু’জনে। একরত্তিকে নিয়েই গড়ে ওঠে দু’জনের বর্তমান জগৎ। নিজেদের জন্য পৃথক সময় বের করার ফুরসত একেবারেই হয় না তখন। একসঙ্গে মুহূর্ত উদযাপনও তখন বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে সম্পর্কের রংও খানিক ফিকে হতে শুরু করে দেয়। তবে জীবনের এই পর্বে একটু বুদ্ধি করে চলতে পারলে সম্পর্ক মধুর হতেই পারে।
# সঙ্গীকে ছোটখাটো সারপ্রাইজ় দিন, সঙ্গীর প্রশংসা করুন, মাঝে-মধ্যেই দু’জনে কোথাও বেরিয়ে পড়ুন- জীবনে এই ছোট ছোট বদলগুলো আনলেই জীবন সুখের হবে! সব সময় সঙ্গী আপনার মনের কথা ভেবেই চলবেন এমনটি কিন্তু নয়, আপনাকেও কিছু প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
# দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় সঙ্গীর জন্য বরাদ্দ রাখুন। সন্তান জন্মের পর বিশেষ করে ওকে ঘিরেই নতুন জগৎ বানিয়ে নেন অভিভাবকরা, এই ভুলটা না করে দাম্পত্য জীবনের জন্যও কিছুটা সময় বের করতে হবে দু’জনকেই।
# প্রিয়জনকে কথায় কথায় ধন্যবাদ জানানোর কোনো দরকার নেই। তবে মাঝে-মধ্যে এই শব্দটি সামনের মানুষটির মন ভালো করে দিতেই পারে। আপনি যে তার প্রতি কৃতজ্ঞ, সেটিও কখনও কখনও ভাষায় প্রকাশ করাটা জরুরি। তার কাজের প্রশংসা করতে হবে, আবার মাঝে-মধ্যে প্রশংসা শুনে সঙ্গীর মনও ভালো হয়ে যেতে পারে। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org