দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষের শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার অন্যতম উপায় হলো নিয়মিতভাবে ব্যায়াম করা। আধুনিক যুগে প্রযুক্তি নির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শারীরিক শ্রমের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
অফিসে বসে কাজ, যানবাহনে চলাফেরা এবং ঘরে অলস সময় কাটানো অনেকের জীবনে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় ব্যায়ামে ব্যয় করা অত্যন্ত জরুরি।
ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো বা যোগব্যায়াম করার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং শরীরের কোষে অক্সিজেনের জোগান বাড়ে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করা সহজ হয়।
ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। যারা প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেন, তাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে না। নিয়মিত ব্যায়াম বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি করে এবং ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। এ কারণে স্থূলতা প্রতিরোধে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।
হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। ব্যায়াম করলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল বাড়ে। ফলে হৃদপিণ্ড শক্তিশালী হয় ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ব্যায়াম অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয় যা মানুষকে উৎফুল্ল রাখে ও মানসিক চাপ কমায়। বিষণ্নতা ও উদ্বেগ কমাতে প্রতিদিনের ব্যায়াম একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে।
নিয়মিত ব্যায়াম হাড় ও পেশি শক্তিশালী করে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ব্যায়াম জরুরি। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয় রোধে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়াও প্রতিদিন ব্যায়াম ঘুমের মানও উন্নত করে। যারা প্রতিদিন সকালে বা বিকালে ব্যায়াম করেন তারা সহজে ঘুমোতে পারেন এবং গভীর ঘুম পান। ফলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয় ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
তবে মনে রাখা দরকার, ব্যায়াম হঠাৎ করে শুরু করা উচিত নয়। শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে শরীরে ক্ষতি হতে পারে।
আর তাই বলা যায়, সুস্থ, দীর্ঘ ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে হলে প্রতিদিন ব্যায়াম অপরিহার্য। এটি শরীর ও মনের জন্য সমানভাবে উপকারী। তাই প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হলেও ব্যায়ামের অভ্যাস করা উচিত, যা জীবনের গুণগত মান উন্নত করবে এবং নানা রোগ থেকে মুক্ত রাখবে।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ 12:32 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…
View Comments
Very actionable advice. I can start applying this right away.
I like the efforts you have put in this, regards for all the great content.
Good post! We will be linking to this particularly great post on our site. Keep up the great writing
taze çiçek
yakın çiçek
çiçek gönder
yakın çiçek
çiçek gönder