দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের অন্যতম সুন্দর সম্পর্ক। একজন প্রকৃত বন্ধু আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, মানসিক শক্তি জোগায় ও জীবনের যাত্রাপথে সাহস দেয়।

তবে ছোটখাটো ভুল, ভুল বোঝাবুঝি বা অহংকারের কারণে অনেক সময় গভীর বন্ধুত্বও ভেঙে যায়। তাই বন্ধুত্ব অটুট রাখতে হলে কিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলা জরুরি।
আন্তরিকতা এবং বিশ্বাস বন্ধুত্বের মূলভিত্তি। বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে তার প্রতি সত্যবাদী হতে হবে। মিথ্যা কথা, গোপনীয়তা ভঙ্গ বা প্রতারণা কোনো বন্ধুত্বের জন্যই ভালো নয়। একজন বন্ধুর সঙ্গে সৎ থাকলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়, আর সন্দেহ বা অবিশ্বাস তৈরি হলে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।
সম্মান এবং সহনশীলতা বন্ধুত্ব রক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বন্ধুর মতামত, চিন্তা বা জীবনধারার সঙ্গে নিজের মত না মিললেও তা সম্মান করতে জানতে হবে। বন্ধুকে ছোট করা, কটূ মন্তব্য করা বা তুচ্ছ বিষয়ে রাগ দেখানো সম্পর্কের বন্ধন দুর্বল করে। তাই বন্ধুত্বে সহনশীলতা এবং শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি।
অতিরিক্ত প্রত্যাশা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। বন্ধুত্বে অতিরিক্ত চাহিদা অনেক সময় বিরক্তির জন্ম দেয়। সব সময় নিজের মতো করে আচরণ বা মনোযোগ চাওয়া বন্ধুকে চাপে ফেলে। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও স্বাধীনতার সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে বন্ধুত্ব থাকে স্বস্তিদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী।
সময় দেওয়া এবং যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ততার কারণে অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু ছোট্ট একটি ফোন কল, মেসেজ বা দেখা করার উদ্যোগ বন্ধুত্বকে জীবন্ত রাখে। বন্ধুর সুখ-দুঃখে খোঁজ নেওয়া সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়।
ভুল বোঝাবুঝি হলে দ্রুত সমাধান করা দরকার। বন্ধুত্বে মতের অমিল বা ভুল বোঝাবুঝি হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই খোলামেলা আলোচনা ও ক্ষমা চাইতে দ্বিধা না করে সমস্যার সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অহংকার এবং প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকা বন্ধুত্ব রক্ষার অন্যতম শর্ত। বন্ধুর সাফল্যে হিংসা না করে খুশি হওয়া, তার উন্নতিতে উৎসাহ দেওয়া সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সততা এবং সহনশীলতা। যদি এই চারটি গুণ আমরা নিজের মধ্যে লালন করি, তবে কোনো ঝড়ই আমাদের বন্ধুত্ব ভাঙতে পারবে না। প্রকৃত বন্ধুত্ব এমনই এক সম্পর্ক- যা যত্নে রাখলে সারা জীবন সুখের উৎস হয়ে থাকে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org