The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কলকাতার ব্যবসায়ীরা রমজানে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দিলেন

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গাজায় সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে পবিত্র রমজান মাসে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দিয়েছেন কলকাতার ফল ব্যবসায়ীরা।

কলকাতার ব্যবসায়ীরা রমজানে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দিলেন 1

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার মেছুয়া ফলপট্টির ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো দেশের কোনো পণ্য এই পবিত্র মাসে বাজারে স্থান পাবে না।

পাইকারি ফল বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের বাজারে ইসরায়েলি খেজুরের সরবরাহ বন্ধ রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নজরদারি চালিয়ে দেখা গেছে যে, কিছু অসাধু চক্র ‘কিং সলেমান’, ‘রিচ কান্ট্রি’ কিংবা ‘জর্ডানের খেজুর’-এমন ভিন্ন নামে মোড়ক বদলে ইসরায়েলি খেজুর বাজারে ছাড়ার চেষ্টাও করেছিল। তবে ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় সেই প্রচেষ্টাও প্রতিহত করা হয়েছে এবং মুম্বাই থেকে আসা শত শত খেজুরের কার্টন ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে ব্যবসায়ীদের এই সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারাও। ইসরায়েলি খেজুরের পরিবর্তে রোজাদাররা এখন ভারতসহ ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, আলজেরিয়া এবং তিউনিসিয়া থেকে আসা খেজুরের ওপরে নির্ভর করছেন। অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন যে, ভিন্ন নামে ইসরায়েলি পণ্য বিক্রির আশঙ্কা থাকায় তারা এই রমজানে দেশি খেজুর কেনাকেই বেশি করে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

মেছুয়া ফলপট্টির ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে যাতে কেও এই নিষিদ্ধ সামগ্রী বিক্রি করতে না পারে, সেজন্যই তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। এই বয়কট আন্দোলনের মাধ্যমে তারা গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর চলা নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিজেদের সংহতি প্রকাশ করলেন।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali