The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: বহু হতাহত

নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর এবার নেপালের বন্যা ও ভূমিধসকে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হচ্ছে। এতে বহু মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: বহু হতাহত 1

নেপাল এবং তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, বুধবার তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর লেন্দে খোলা নদীর ওপর থাকা বড় একটি হিমবাহ কিংবা বরফের স্তূপ ধসে পড়ে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটতে পারে। ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সেখানে সাময়িকভাবে পানির এক আধার তৈরি হয়। পরে জমে থাকা পানি এবং বরফের সেই বাধা ভেঙে প্রবল বেগে সেটি নিচের দিকে নেমে আসে। এতেই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল গতকাল (বুধবার) দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, এই ভূমিকম্পটি হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে। এর ঠিক ৩ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘তবে এটি আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে যে, দীর্ঘ কালের ভূকম্পীয় তরঙ্গের কারণে ভূকম্পীয় শক্তিটি ভূমিধসের কারণে পরিণত হয়। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ হতে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।

নেপালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছে যে, পাহাড় থেকে বরফের একটি বিশাল খণ্ড ধসে পড়ে থাকতে পারে, যা পাথর এবং অন্যান্য পলিমাটি টেনে নামিয়ে এনেছে।

প্রবল স্রোতে নেপাল এবং তিব্বতের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা। দুর্ঘটনার পর বহু স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের তালিকায় শতাধিক ভারতীয় নাগরিকের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। লেন্দে নদীর উজানে মাটি এবং বরফের স্তূপ আটকে থাকায় নতুন করে পানির প্রবাহ তৈরি হলে আবারও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।

নেপাল থেকে প্রবাহিত কয়েকটি নদী ভারতে প্রবেশ করায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিহার এবং উত্তর প্রদেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।

এদিকে সর্বশেষ সংবাদে জানা যায়, নেপাল সরকারের আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভারত ও চীন উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali