দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় গ্রহগুলোর একটি নেপচুন। পৃথিবী থেকে বিপুল দূরত্বে থাকা এই নীল গ্রহকে ঘিরে থাকা ছোট ছোট উপগ্রহ নিয়েও বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের যেনো শেষ নেই।

এবার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে নেপচুনের কয়েকটি ছোট চাঁদ এবং তার বলয়ে এমন কিছু খনিজের সন্ধান মিলেছে, যা বিজ্ঞানীদের সামনে এক বিস্ময়কর সম্ভাবনা তৈরি করেছে- এই উপগ্রহগুলো হয়তো কোনো একসময় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিশাল বরফময় জগতের টুকরো!
সাম্প্রতিক গবেষণায় নেপচুনের ছোট উপগ্রহ Larissa এবং Galatea ও গ্রহটির বলয়ের উপাদানে কাদামাটির মতো কিছু খনিজের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এইসব খনিজ সাধারণত তরল পানির উপস্থিতিতে গঠিত হতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ছোট উপগ্রহগুলোর পৃষ্ঠে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফের অস্তিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ নেই। যে কারণে প্রশ্ন উঠেছে- এই পানিসংশ্লিষ্ট খনিজগুলো এলো কোথা থেকে?
গবেষকদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হচ্ছে, নেপচুনের বর্তমান ছোট উপগ্রহগুলো হয়তো একসময় আরও বড় বরফময় উপগ্রহের অভ্যন্তরের অংশ ছিল। সেই প্রাচীন উপগ্রহগুলো কোনো বিশাল মহাজাগতিক সংঘর্ষে ভেঙে গেলে তাদের অভ্যন্তরের উপাদানও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই ধ্বংসাবশেষ থেকেই নেপচুনের বর্তমান ছোট উপগ্রহ এবং বলয়ের কিছু অংশ তৈরি হতে পারে।
এই সম্ভাবনার সঙ্গে নেপচুনের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ Triton-এর ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। Triton-কে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি সম্ভবত নেপচুনের মূল উপগ্রহ-ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তৈরি হয়নি; বরং সৌরজগতের অন্য অঞ্চল হতে নেপচুনের মহাকর্ষে আটকা পড়েছিল। Triton-কে নেপচুনের মহাকর্ষে বন্দী করার সময় ঘটে যাওয়া বিশাল মহাজাগতিক অস্থিরতা নেপচুনের আগের উপগ্রহগুলোর কক্ষপথকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সেই অস্থিরতার কারণেই কয়েকটি বড় উপগ্রহ একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।
এমন ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে বর্তমান নেপচুন-ব্যবস্থা আসলে একটি প্রাচীন মহাজাগতিক বিপর্যয়ের ‘ধ্বংসাবশেষ’ও হতে পারে।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের বিশেষত্ব হলো, এটি দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তুর রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে অত্যন্ত সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। কোনো পৃষ্ঠে আলো কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, তার বর্ণালী বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সেখানে থাকা খনিজের ধরন সম্পর্কে ধারণা পান। নেপচুনের চাঁদগুলোর ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতিতে অস্বাভাবিক খনিজের সন্ধান পাওয়া যায়।
তবে বিজ্ঞানীরা এখনও বলছেন না যে, নেপচুনের চাঁদগুলোর উৎপত্তি নিশ্চিতভাবেই এমন একটি সংঘর্ষের কারণে হয়েছে। এটি একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, যা আরও পর্যবেক্ষণ এবং মডেলিংয়ের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
যদি ভবিষ্যৎ গবেষণায় এই ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সৌরজগতের উপগ্রহগুলোর জন্ম এবং বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরও সমৃদ্ধ হবে। একইসঙ্গে বোঝা যাবে, গ্রহের চারপাশের ছোট ছোট উপগ্রহও কত বড় মহাজাগতিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারে।
অর্থাৎ, নেপচুনের কয়েকটি ছোট চাঁদ হয়তো দেখতে শান্ত এবং নিষ্প্রাণ হলেও তাদের জন্মের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কোটি কোটি বছর আগের এক ভয়াবহ মহাজাগতিক সংঘর্ষের গল্প। সেই গল্পের সূত্র বিজ্ঞানীরা এখন পড়ছেন জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের চোখ দিয়ে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org