দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান সময়ে সুস্থ ও ছিপছিপে শরীর ধরে রাখা অনেকেরই বড় লক্ষ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়, ফিটনেস সচেতন মানুষজন ‘প্রোটিন কফি’ বা ‘প্রোফি’ পান করছেন।
অনেকেই মনে করছেন, এই বিশেষ পানীয়ই নাকি ছিপছিপে শরীরের মূল রহস্য। তবে বাস্তবে কি শুধু প্রোটিন কফি পান করলেই শরীর স্লিম থাকে? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?
প্রোটিন কফি মূলত কফির সঙ্গে প্রোটিন পাউডার বা প্রোটিনসমৃদ্ধ উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা একটি পানীয়। সাধারণত যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা জিমে যান, তারা শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে এই পানীয় পান করেন। প্রোটিন শরীরের পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রোটিন কফি পান করলেই ছিপছিপে শরীর পাওয়া যায়- এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ ও ফিট শরীরের মূল চাবিকাঠি। যদি কেউ অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করেন এবং শারীরিক পরিশ্রম না করেন, তাহলে কেবল একটি পানীয় তার ওজন কমিয়ে দিতে পারবে না।
ছিপছিপে শরীর ধরে রাখতে প্রথমেই প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, তেলযুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য কম খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
এ ছাড়াও নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা জিমে ব্যায়াম করলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়ে এবং পেশি শক্তিশালী হয়। এতে শরীরের গঠন সুন্দর থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ঘুমও একটি বড় ভূমিকা পালন করে। অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা অতিরিক্ত ক্ষুধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অজান্তেই বেশি খাবার খাওয়া হয় এবং ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
এ ছাড়াও পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মানসিক চাপ কম রাখাও শরীর সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে মানুষ অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ।
প্রোটিন কফি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যারা ব্যায়াম করেন তাদের জন্য। তবে এটিই ছিপছিপে শরীরের একমাত্র রহস্য নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন- এই চারটি বিষয়ই মূলত সুস্থ এবং ছিপছিপে শরীরের প্রকৃত ভিত্তি।
>>>>>>>>>>>>>>
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This post was last modified on মার্চ ১০, ২০২৬ 12:33 pm
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন)…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নরওয়ের ওসলোতে যাওয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মহাকাশে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো প্রথম দেখায় যেন কোনো…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুভ সকাল। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খৃস্টাব্দ, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খাওয়ার প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারেই…
দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ টেকসই অবকাঠামো, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ…