The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন পারমাণবিক রণতরি ‘বুশ’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিজেদের শক্তি আরও বাড়ানোর জন্য বিশাল পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন পারমাণবিক রণতরি ‘বুশ’ 1

গত মঙ্গলবার ভোরে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে রণতরিটিকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এর চূড়ান্ত গন্তব্য গোপন রাখা হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, এটি ইরান উপকূলে মোতায়েন করা মার্কিন নৌবহরেই যোগ দিচ্ছে।

রণতরিটি বন্দর ছাড়ার সময় উপস্থিত পরিবারগুলোর মধ্যে এক ধরনের বিষণ্নতা এবং উদ্বেগও দেখা গেছে। সাধারণত এই ধরনের মোতায়েন ৬ মাসের জন্য হলেও, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা ৮ মাস কিংবা তার বেশি দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। ডেপুটি ফ্লিট ফোর্সেস কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জন গাম্বলটন জাহাজের ইন্টারকমে নাবিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমরা জানি এই মোতায়েনের অনিশ্চয়তা আপনাদের মধ্যে উদ্বেগ এবং হতাশা তৈরি করেছে, তবে একে অপরের দিকে খেয়াল রাখবেন।

ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-১০-এর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যালেক্সিস ওয়াকার সাংবাদিকদের বলেছেন, বিশ্বের যেখানেই আমাদেরকে প্রয়োজন হবে, আমরা সেখানেই যাবো। তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা তাদের মূল লক্ষ্য। অপরদিকে, ক্যাপ্টেন রবার্ট বিবেউ এক অগ্নিনির্বাপক কর্মীর উদাহরণ টেনে বলেন যে, দমকল কর্মীরা জানেই না কাল কোথায় আগুন লাগবে, তবে তারা জানেন যে তারা প্রস্তুত ও সমস্যা সমাধানে সক্ষম।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এই অঞ্চলে অবস্থানরত ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ রণতরিটির মোতায়েনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১১ মাসে নিয়ে যেতে পারে, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময় মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে দীর্ঘতম অবস্থানের রেকর্ড ভাঙতে চলেছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ফোর্ড টানা ২৮০ দিন সমুদ্রেই অবস্থান করছে।

‘বুশ’ রণতরির এই যাত্রায় তার সঙ্গে থাকছে অত্যাধুনিক স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন ‘জলি রজার্স’ এবং ‘রামপেজার্স’সহ বেশ কিছু ধ্বংসাত্মক যুদ্ধজাহাজ। পেন্টাগন এই পুরো অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো ইরানে চলমান বিমান হামলাগুলোতে সরাসরি সহায়তা প্রদান করা। এই নতুন অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও এক জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali