দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কাজের চাহিদা এবং ধরন বদলানোর সাথে সাথে বর্তমানে একইসাথে অনেকগুলো কাজ করা নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে।

কম্পিউটারের মনিটরের এক কোণায় স্প্রেডশিট খোলা, তো আরেক পাশে ক্লায়েন্টের মেইল; জুমে মিটিং করতে করতেই কিছুক্ষণ পরপর ইনবক্স চেক করা, জরুরি কোন ইমেল আসল কি-ই না। এর সাথে আছে ব্রাউজারে খোলা অসংখ্য ট্যাব, যার অর্ধেকের বেশিই কেন খোলা হয়েছিল, সেটার হদিস নেই।
সময়ের সাথে সাথে কাজের ধরণ বদলেছে ঠিকই, তবে এর সাথে তাল মিলিয়ে এখনো বদলায়নি অনেকের কম্পিউটারের স্ক্রিন। এখন যেভাবে দ্রুত এবং একসঙ্গে অনেক কাজ সামলাতে হয়, তা আদতে পুরোনো বা ২৪ ইঞ্চির ছোট মনিটরে করা সম্ভব নয়। পুরোনো মনিটরে মানিয়ে নিতে হয়তো প্রত্যেকটি কাজের জন্য আলাদা উইন্ডো বেছে নিতে হবে, অথবা সব একসঙ্গে দেখতে উইন্ডোগুলো এতটাই ছোট করতে হবে যে পড়তে গেলে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়বে। পাশাপাশি, বারবার উইন্ডো এবং ট্যাব বদলানোর কারণে কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তবে, এখন সময় বদলেছে; বদলেছে মনিটরের পরিসরও। নতুন প্রযুক্তির মনিটরগুলো যেমন প্রশস্ত, তেমনই টেকসই, যা বদলে দিতে পারে কাজের অভিজ্ঞতা। বড় মনিটরগুলোতে বারবার ট্যাব পরিবর্তনের ঝামেলা নেই, তিন-চারটি উইন্ডোতে অনায়াসেই কাজ করা যায়। হাতের কাজগুলো সব একসাথে সামনে থাকলে কমে মানসিক চাপও।
তবে, একইসাথে, একাধিক কাজ করার সুবিধা শুধুমাত্র মনিটরের আকারের ওপরেই নির্ভর করে না; অন্যান্য ফিচারও গুরুত্বপূর্ণ। ছবির ক্লারিটি, রঙের নির্ভুলতা, রেজ্যুলেশন; সবকিছুই কাজের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলে। পেশাজীবীদের দিনের দীর্ঘ একটি সময় কাটে স্ক্রিনের সামনে। তাই, চোখের ওপর চাপ কমানো, কম নীল আলো নিঃসরণ এবং ফ্লিকার-ফ্রি প্রযুক্তির মত সুবিধাসহ মনিটর থাকা এখন কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তৈরি হচ্ছে আধুনিক মনিটর। উদাহরণ হিসেবে স্যামসাংয়ের নতুন ‘ওডিসি নিও জি৯’ -এর কথা বলা যায়। ৫৭ ইঞ্চি আকারের এই মনিটরটি বর্তমানে বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে বড় মনিটর। এর বড়, বাঁকানো পর্দায় একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিসর তৈরি করে পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, যাদের কাজ তুলনামূলকভাবে বেশি ভ্যিজুয়াল নির্ভর, যেমন গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও সম্পাদনা, তাদের জন্য রয়েছে ৪৯ ইঞ্চির ‘ওডিসি ওএলইডি জি৯’। আল্ট্রাওয়াইড স্ক্রিনের সাথে মনিটরটিতে রয়েছে ওএলইডি প্রযুক্তি, যা উজ্জ্বল রঙ এবং তীক্ষ্ণ কন্ট্রাস্টর জন্যে সুপরিচিত। আর গেম খেলার ক্ষেত্রে আলাদা ভাবে নজর কাড়ে স্যামসাংয়ের ‘ওডিসি জি৬’। এটি বিশ্বের প্রথম ৫০০ হার্টজ ওএলইডি মনিটর, যা দ্রুতগতির দৃশ্যেও ল্যাগ কমিয়ে মসৃণ গেমিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে।
বিশেষ সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি আধুনিক এ মনিটরগুলো আমাদের প্রাত্যহিক কাজকে আরও সহজ করে দিতে পারে। কম্পিউটার যেহেতু দিনের বড় একটি সময় আমরা ব্যবহার করি, তাই নতুন হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ করা কে নিছক খরচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কাজের সময় স্ক্রিনে যদি পর্যাপ্ত জায়গা, ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য ও চোখের স্বস্তি থাকে, তাহলে হাজারটা ট্যাব বা উইন্ডো সামলানো নিয়ে আর ভাবতে হয় না, কাজ শেষ করা যায় স্বস্তিতে, কোন ঝামেলা ছাড়াই।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org