দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত দ্রুত বাড়ছে, ততই এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এনভিডিয়ার নেতৃত্বে ১২০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে গঠিত হয়েছে ওপেন সিকিউর এআই অ্যালায়েন্স।

জোটটির লক্ষ্য হলো এআই মডেল, সফটওয়্যার এবং এআই-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় এজেন্টকে নিরাপদ রাখার জন্য উন্মুক্ত প্রযুক্তি, গবেষণা এবং সরঞ্জাম তৈরি এবং ভাগাভাগি করা।
এআই এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সফটওয়্যার নয়। নতুন প্রজন্মের এআই এজেন্ট ই-মেইল পড়তে, সফটওয়্যার ব্যবহার করতে, ওয়েবসাইটে কাজ করতে, কোড লিখতে ও বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ফলে এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা অপব্যবহারের সম্ভাবনাও বাড়ছে।
এই নতুন জোটের গুরুত্ব এখানেই। একটি এআই মডেলকে নিরাপদ রাখা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সবসময় সম্ভব নয়। কারণ এআই ব্যবস্থার সঙ্গে চিপ, ক্লাউড, সফটওয়্যার, ডেটা, অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যবহারকারীর বিভিন্ন স্তর যুক্ত থাকে। কোনো একটি স্তরের দুর্বলতা পুরো ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এনভিডিয়া জানিয়েছে, ওপেন সিকিউর এআই অ্যালায়েন্স-এর উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপদ এআই তৈরিতে উন্মুক্ত সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের গবেষণা, মডেল, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা পদ্ধতি ভাগাভাগি করলে এআই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৃহত্তর একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও বাড়িয়ে দিয়েছে। শক্তিশালী এআই এজেন্ট এখন এমন কিছু কাজ করতে পারে, যা আগে শুধু দক্ষ মানুষ বা বিশেষায়িত সফটওয়্যার দিয়ে করা সম্ভব ছিল। একই সঙ্গে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এআই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে সাইবার আক্রমণ আরও স্বয়ংক্রিয় এবং দ্রুত করা সম্ভব হতে পারে। সে কারণে এআই নিরাপত্তা এখন প্রযুক্তি কোম্পানির পাশাপাশি সরকার ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
এখানে ‘উন্মুক্ত’ পদ্ধতিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নিরাপত্তা গবেষকরা যদি একে অপরের সঙ্গে দুর্বলতা, আক্রমণের কৌশল এবং প্রতিরোধের পদ্ধতি ভাগ করে নিতে পারেন, তাহলে নতুন হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব হতে পারে। তবে উন্মুক্ত গবেষণার ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যও প্রয়োজন। এমন তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, যা সরাসরি ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করা সহজ করে দেয়।
এআই নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘এআই এজেন্ট’ নিয়ন্ত্রণ। কোনো এআই যদি নিজে থেকে একাধিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে তার অনুমতি কতটুকু থাকবে, কোন কাজ করার আগে মানুষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে ও ভুল হলে কীভাবে তাকে থামানো হবে- এইসব প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের কাছে এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি নতুন শিল্পজোট নয়; এটি এআই উন্নয়নের পরবর্তী ধাপের ইঙ্গিত। ভবিষ্যতে এআই যত বেশি বাস্তব কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে, নিরাপত্তা ততই পণ্যের অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য না থেকে মূল নকশার অংশ হয়ে উঠবে।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রতিযোগিতা যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন নিরাপদ এআই তৈরির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ শক্তিশালী এআই তৈরি করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই শক্তি যেন অনিয়ন্ত্রিতভাবে অপব্যবহার না হয়- তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org