The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছাতে পারে আরও মানুষের কাছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে যেখানে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক কিংবা ফাইবার-অপটিক সংযোগ পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছাতে পারে আরও মানুষের কাছে 1

এই খাতে ইলন মাস্কের স্টারলিংক অন্যতম আলোচিত প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ সালের ২০ আগস্টের এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, স্টারলিংক ভারতে তাদের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদনের জন্য আবারও আবেদন করেছে।

স্টারলিংকের মূল প্রযুক্তি হলো নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথ কিংবা লো আর্থ অরবিটের বিপুলসংখ্যক উপগ্রহ ব্যবহার করে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া। প্রচলিত ভূভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থায় সাধারণত ফাইবার, মোবাইল টাওয়ার কিংবা কেবল নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হয়। তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর টার্মিনাল সরাসরি কক্ষপথের উপগ্রহের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

ভারতের মতো বিশাল দেশে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য। বড় শহরগুলোতে ফাইবার এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের বিস্তার থাকলেও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, দ্বীপ, সীমান্ত এলাকা বা প্রত্যন্ত গ্রামে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এইসব এলাকায় নতুন বিকল্প তৈরি করতে পারে।

স্টারলিংক ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছে নতুন করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের জন্য আবার আবেদন করেছে ও তাদের লক্ষ্য ভারতের বাজারে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্টারলিংকের প্রযুক্তির মধ্যে সরাসরি যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা ‘ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইস’ ধরনের সংযোগের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো দুর্যোগের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা। ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা যুদ্ধের কারণে মোবাইল টাওয়ার এবং কেবল নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় টার্মিনাল কিংবা সরঞ্জামের দাম, মাসিক খরচ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও আকাশের দিকে তুলনামূলক পরিষ্কার দৃষ্টিসীমা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি দেশের নিজস্ব নীতিমালা, নিরাপত্তা বিধি এবং টেলিযোগাযোগ আইন রয়েছে।

ভারতের বাজারে প্রবেশের অনুমোদন পেলে এটি দেশটির ইন্টারনেট প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। স্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্নত সেবা এবং অবকাঠামো তৈরিতে উৎসাহিত করতে পারে। একইসঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়ার সুযোগও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্যোগপ্রবণ দেশেও ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গুরুত্ব বাড়তে পারে। বিশেষ করে চরাঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং দুর্যোগের সময় বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali