The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এবার নেটদুনিয়ায় ভাইরাল এআই সিরিজ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শারীরিক অবয়ব পছন্দ না হওয়ার কারণে স্বামী তাকে ফেলে চলে যান। অর্থকষ্ট ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে জীবন যখন সম্পূর্ণ থমকে যায়, ঠিক তখনই অপ্রত্যাশিত এক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলে যায় নোরার ভাগ্যের চাকা।

এবার নেটদুনিয়ায় ভাইরাল এআই সিরিজ 1

‘সৎ মা প্রয়োজন’- এমন একটি বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে তিনি যান শহরের এক ধনকুবের মাফিয়া ডনের বাসভবনে। অবাস্তব মনে হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের এই রোমাঞ্চকর আখ্যান নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’ নামে এআই শর্ট সিরিজটি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় দর্শকদের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। নিছক চুক্তির সম্পর্ক থেকে ভালোবাসার জন্ম ও অবহেলিত এক নারীর নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই- রোমান্স, আন্ডারওয়ার্ল্ড ড্রামা এবং অনুভূতির মিশেলে তৈরি হয়েছে এই গল্পের প্রেক্ষাপট।

গল্পের মূল চরিত্র নোরাকে কেন্দ্র করে কাহিনী এগিয়ে যায়। স্বামীর লাঞ্ছনা এবং প্রত্যাখ্যানের পর একরকম নিঃস্ব হয়ে কাজের খোঁজে তিনি পৌঁছান অন্ধকার জগতের ক্ষমতাধর ওই ব্যক্তি লুকার বাড়িতে। সেখানে তার ওপর দায়িত্ব নিতে হয় লুকার ছোট ছেলে লিওকে দেখাশোনার। শুরুর দিকে দু’জনের এই সংযোগ পুরোপুরি চুক্তিভিত্তিক শর্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও সময়ের আবর্তে পরিস্থিতির রূপ যেনো বদলাতে থাকে।

ছোট্ট লিওর সঙ্গে নোরার গভীর এবং স্নেহময় রসায়ন এই সিরিজের অন্যতম আবেগঘন একটি দিক। নোরার যত্নে শিশুটি যেমন নির্ভরতার জায়গা খুঁজে পেতে সক্ষম হয়, তেমনি লুকার কাছেও নোরার গুরুত্ব ক্রমান্বয়েই বাড়তে থাকে। আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রাচীর ভেঙে ধীরে ধীরে তাদের মাঝে অনুরাগের সম্পর্কও গড়ে ওঠে।

মাফিয়া প্রধান লুকার চরিত্র রূপায়ণও দর্শকদের বাড়তি কৌতূহলের একটি কারণ। একদিকে অপরাধ জগতের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে তিনি ভয়ংকর এবং ক্ষমতাবান, অপরদিকে সন্তানের সামনে তিনি একেবারেই যেনো সংবেদনশীল এক অভিভাবক। সন্তানের প্রতি তার অকৃত্রিম মমতা ও নোরার প্রতি জন্ম নেওয়া অনুভূতি চরিত্রটিকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।

তবে এই সিরিজটির আবেদন কেবল মাফিয়া-রোমান্সেই সীমাবদ্ধ নেই। নিজের রূপ নিয়ে অপমানিত হয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা একজন নারী প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে নিজের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তা নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই সিরিজে। নোরা এখানে কেবলমাত্র প্রেমের গল্পের নায়িকাই নন, তিনি নিজের অবস্থান নতুন করে ফিরে পাওয়ার এক প্রতীকও বটে।

সেইসঙ্গে এআই প্রযুক্তিতে নির্মিত শর্ট সিরিজের নতুন ঘরানাও তরুণ দর্শকদের বেশ আকৃষ্ট করছে। দ্রুতগতির দৃশ্যপট, টানটান নাটকীয়তা ও আবেগঘন মোড়- সব মিলিয়ে সিরিজটি নেটদুনিয়ায় দর্শক ধরে রাখতেও সফল হয়েছে। একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি কি পরিশেষে সত্যিকার অনুরাগে পরিণত হতে পারে? সেই জিজ্ঞাসা মেটাতেই সিরিজটি বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অন্যতম প্রধান চর্চায় পরিণত হয়েছে। পুরো নেট দুনিয়ায় এখন এই একই আলোচনা।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali