দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের কৌশলগত প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে চীন।

দেশটির ২০২৬-২০৩০ সময়কালের সাইবার ও প্রযুক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোয়ান্টাম বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন যে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উচ্চক্ষমতার চিপ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটিং প্রযুক্তিতেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত কম্পিউটারের মতো শুধু শূন্য এবং একের ভিত্তিতে কাজ করে না। কোয়ান্টাম বিট বা কিউবিটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে কিছু জটিল গণনা সম্পন্ন করার নতুন পদ্ধতি তৈরি করা হয়।
তাত্ত্বিকভাবে নির্দিষ্ট ধরনের সমস্যায় কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রচলিত কম্পিউটারের তুলনায় অনেক দ্রুত ফল দিতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে ও ব্যাপক বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য নানা প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে।
চীনের নতুন পরিকল্পনায় কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে উচ্চপ্রযুক্তির চিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ব্লকচেইন এবং মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তির মতো অন্যান্য অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের সঙ্গে রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে আলাদা গবেষণার বিষয় হিসেবে না দেখে বৃহত্তর প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত ব্যবহারগুলোর একটি হচ্ছে নিরাপদ যোগাযোগ। ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার বর্তমানের কিছু প্রচলিত এনক্রিপশন ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হতে পারে- এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী নিরাপত্তা প্রযুক্তি কিংবা পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফির দিকে এগোচ্ছে।
এখানে চীনের নতুন পরিকল্পনার কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। যে কারণে ভবিষ্যতের কম্পিউটিং, যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তায় নেতৃত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
কোয়ান্টাম প্রযুক্তি সফল হলে এর প্রভাব ওষুধ আবিষ্কার, নতুন উপাদান তৈরি, জটিল রাসায়নিক বিশ্লেষণ, অর্থনৈতিক মডেলিং এবং নিরাপদ যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রে পড়তে পারে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সমন্বয় নিয়েও গবেষণা চলছে। সম্প্রতি কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং এআইকে একত্র করে ওষুধ গবেষণার মতো ক্ষেত্রে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের খবরও সামনে এসেছে।
তবে পরিকল্পনা ঘোষণা করলেই কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব নিশ্চিত হয় না। কিউবিটের স্থায়িত্ব, ভুলের হার কমানো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তিশালী সফটওয়্যার ও দক্ষ গবেষক তৈরির মতো বড় চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। তাই আগামী কয়েক বছর হবে বাস্তব প্রয়োগের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়।
চীনের নতুন পরিকল্পনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিতে দেখছে। কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে আজকের গবেষণা আগামী দশকে কম্পিউটিং এবং সাইবার নিরাপত্তার কাঠামো বদলে দিতে পারে। সে কারণেই এই প্রযুক্তিকে ঘিরে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এখন শুধুমাত্র গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই; এটি জাতীয় প্রযুক্তি কৌশলের অংশও হয়ে উঠেছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org