দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কিডনি শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা, শরীরের তরল এবং বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কিডনি।

কিডনি ভালো রাখতে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না; নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিয়মিত ব্যায়াম ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে- যেগুলো কিডনি সুস্থ রাখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
কিডনি সুস্থ রাখার জন্য সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি হলো দ্রুত হাঁটা কিংবা brisk walking। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তারা প্রথমে প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৩০ মিনিট কিংবা তার বেশি করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে সপ্তাহে মোট প্রায় ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ড করার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে, যদি ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সেটি অনুমোদন করে।
সাইকেল চালানোও ভালো একটি অ্যারোবিক ব্যায়াম। বাইরে সাইকেল চালাতে অসুবিধা হলে স্থির সাইকেল ব্যবহার করা যেতেই পারে। একইভাবে সাঁতারও শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় রাখে ও হৃদযন্ত্রের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত মাত্রায় অ্যারোবিক ব্যায়াম বেশ উপকারী হতে পারে।
শুধু হাঁটা কিংবা সাইকেল নয়, হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। হালকা ওজন তোলা, শরীরের নিজস্ব ওজন ব্যবহার করে উপযুক্ত ব্যায়াম বা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডের মাধ্যমে ব্যায়াম পেশিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ব্যায়ামের ধরন এবং তীব্রতা রোগের পর্যায়, বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা উচিত।
স্ট্রেচিং এবং ভারসাম্যের ব্যায়ামও দৈনন্দিন রুটিনে রাখা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস থাকলে মাঝেমধ্যে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটা কিংবা হালকা নড়াচড়া করাও উপকারী। কিডনি রোগীদের জন্য নির্দেশিকায় দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পরিবর্তে হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ড করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও রয়েছে। কারও যদি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস, হৃদরোগ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো জটিলতা থাকে, তাহলে নিজের ইচ্ছায় কঠিন ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়। কিডনি রোগের গুরুতর পর্যায়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যায়ামের ধরন এবং মাত্রা নির্ধারণ করা দরকার।
অর্থাৎ কিডনির জন্য পৃথক কোনো ‘ম্যাজিক ব্যায়াম’ নেই। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল, সাঁতার, হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং- সামগ্রিকভাবে সক্রিয় জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা কিডনি সুস্থ রাখার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org