The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চীনে আরও বড় মেমোরি চিপ কারখানা!

AI-এর চাহিদা মেটাতে CXMT-এর বিশাল পরিকল্পনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শুধু এআই প্রসেসর নয়, মেমোরি চিপের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। বড় ভাষা মডেল, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং ও উচ্চক্ষমতার সার্ভারের জন্য বিপুল পরিমাণ DRAM ও অন্যান্য মেমোরি প্রয়োজন।

চীনে আরও বড় মেমোরি চিপ কারখানা! 1

এই পরিস্থিতিতে চীনের সবচেয়ে বড় মেমোরি চিপ নির্মাতা ChangXin Memory Technologies বা CXMT বেইজিংয়ে আরও একটি বড় কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত Reuters-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম্পানিটি বেইজিংয়ের Yizhuang এলাকায় দ্বিতীয় ১২-ইঞ্চি DRAM কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করছে এবং এ প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

CXMT বর্তমানে চীনের মেমোরি চিপ শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির ইতোমধ্যে তিনটি DRAM উৎপাদন কারখানা রয়েছে- দুটি Hefei-তে এবং একটি Beijing-এ। প্রতিটি কারখানার মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ লাখ wafer-এর কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন প্রকল্পগুলো Shanghai, Hefei ও Beijing-এ পুরোপুরি চালু হলে CXMT-এর মোট উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

এখানে ‘wafer’ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একটি semiconductor wafer হলো বিশেষ ধরনের সিলিকন পাত, যার ওপর অসংখ্য ক্ষুদ্র চিপের সার্কিট তৈরি করা হয়। একটি ১২-ইঞ্চি wafer-এর আকার বড় হওয়ায় একই wafer থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি চিপ তৈরি করা সম্ভব। ফলে বড় আকারের আধুনিক semiconductor fabrication plant কিংবা fab তৈরি করা হলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়।

CXMT-এর সম্প্রসারণের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নেই; এর সঙ্গে চীনের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার বিষয়টিও জড়িত। বিশ্বের DRAM বাজার এখনও Samsung, SK Hynix এবং Micron-এর মতো প্রতিষ্ঠানের দখলে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে বৈশ্বিক DRAM বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। CXMT তাদের তুলনায় অনেক ছোট হলেও চীন দেশীয় মেমোরি চিপ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।

CXMT সম্প্রতি চীনের মূল ভূখণ্ডে semiconductor খাতের অন্যতম বড় IPO-ও সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিটি প্রায় ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে বলে Reuters জানিয়েছে। এই বিপুল অর্থায়ন কোম্পানির উৎপাদন সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বেইজিংয়ের নতুন প্রকল্পটির জন্য CXMT স্থানীয় সরকারি সহায়তাও চাইছে। সূত্রের বরাত দিয়ে Reuters জানিয়েছে, কোম্পানিটি Beijing Economic-Technological Development Area-এর কাছ থেকে অন্তত ৬০ মিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সহায়তা চাচ্ছে। অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এই অর্থায়নে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

এই সম্প্রসারণের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তারের কারণে বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এআই সার্ভারে শুধু GPU বা এআই accelerator নয়, প্রচুর উচ্চক্ষমতার মেমোরিও প্রয়োজন। যে কারণে এআই-এর উত্থান এখন মেমোরি চিপ শিল্পের জন্যও বড় ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করেছে।

তবে CXMT-এর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। আধুনিক DRAM প্রযুক্তিতে Samsung, SK Hynix ও Micron-এর বহু বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। উৎপাদন বাড়ালেই যে প্রযুক্তিগত মানের দিক থেকে তাদের সঙ্গে সমান প্রতিযোগিতা করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি semiconductor manufacturing-এর জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি, উপকরণ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন।

এরপরও CXMT-এর এই পরিকল্পনা বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এআই যুগে চিপের লড়াই শুধু processor-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; মেমোরি চিপও এখন প্রযুক্তিগত শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। চীন যদি দ্রুত DRAM উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাহলে বৈশ্বিক মেমোরি বাজারের প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনও আসতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali