The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এআই ডেটা সেন্টারের গতি বাড়াতে আলো দিয়ে তথ্য পাঠাবে চিপ!

৩০ কোটি ডলারের নতুন বিনিয়োগ

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু শক্তিশালী প্রসেসর তৈরি করা নয়; সেই প্রসেসরগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ডেটা দ্রুত স্থানান্তর করাও বিশাল চ্যালেঞ্জ।

এআই ডেটা সেন্টারের গতি বাড়াতে আলো দিয়ে তথ্য পাঠাবে চিপ! 1

এআই ডেটা সেন্টারে হাজার হাজার GPU এবং অন্যান্য প্রসেসর একসঙ্গে কাজ করে। তাদের মধ্যে যত দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, পুরো এআই সিস্টেম তত কার্যকর হয়। এই সমস্যার সমাধানে বিদ্যুতের পরিবর্তে আলো ব্যবহার করে ডেটা পরিবহনের প্রযুক্তি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার GlobalFoundries-কে silicon photonics প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য ৩০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই প্রযুক্তিতে বৈদ্যুতিক সিগন্যালের বদলে আলো ব্যবহার করে চিপ বা চিপ-সংলগ্ন ব্যবস্থার মধ্যে তথ্য স্থানান্তর করা যায়। এআই ডেটা সেন্টারের জন্য এর সম্ভাব্য সুবিধা হলো আরও বেশি bandwidth এবং কম শক্তি খরচ।

প্রযুক্তিটির ধারণা সহজভাবে বোঝা যায় এভাবে- বর্তমান কম্পিউটিং ব্যবস্থায় ডেটা পরিবহনের জন্য বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ডেটার পরিমাণ যখন বিপুল হয়ে যায়, তখন তার গতি, শক্তি খরচ এবং তাপ উৎপাদনের সমস্যা বাড়তে থাকে। Silicon photonics সেখানে আলোকে ডেটা বহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।

GlobalFoundries-এর নতুন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো co-packaged optics। এর মাধ্যমে optical কিংবা আলোকভিত্তিক যোগাযোগ প্রযুক্তিকে সরাসরি এআই processor-এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা যায়। লক্ষ্য হলো ডেটা এক চিপ থেকে অন্য চিপে দ্রুত পাঠানো এবং একই সঙ্গে শক্তির অপচয় কমানো। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, GlobalFoundries ৪০০ Gbps পর্যন্ত ডেটা ট্রান্সফার গতি এবং পাঁচ গুণ পর্যন্ত উন্নত energy efficiency-এর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

এআই-এর ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কেন? ChatGPT-এর মতো generative এআই, ভিডিও তৈরি, স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট এবং বড় ভাষা মডেল পরিচালনার জন্য বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন। একটি এআই মডেলের কাজ অনেকগুলো GPU কিংবা accelerator-এর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। যে কারণে শুধু প্রতিটি প্রসেসরের ক্ষমতা বাড়ালেই হবে না; প্রসেসরগুলোর মধ্যে যোগাযোগও দ্রুত করতে হবে।

এখানে photonics বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যদি একটি এআই ডেটা সেন্টারে কম শক্তি ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে তথ্য স্থানান্তর করা যায়, তাহলে একই বিদ্যুৎ অবকাঠামো দিয়ে আরও বেশি কম্পিউটিং কাজ করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে শক্তি কম খরচ হলে cooling-এর চাপও কিছুটা কমতে পারে।

তবে silicon photonics-এর সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করা, optical component উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো, semiconductor manufacturing-এর সঙ্গে photonics-এর সমন্বয় এবং খরচ কমানো সহজ নয়। Reuters জানিয়েছে, silicon photonics-এর সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি বড় অংশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছে, বিশেষ করে তাইওয়ান এবং ইসরায়েলের মতো দেশে।

এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগকে শুধু একটি কোম্পানিকে অর্থ সহায়তা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর পেছনে এআই অবকাঠামোর জন্য দেশীয় প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার লক্ষ্যও রয়েছে।

এআই যত বড় হবে, তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে- কে দ্রুততম প্রসেসর তৈরি করতে পারে, কে সবচেয়ে কম বিদ্যুতে সেটি চালাতে পারে এবং প্রসেসরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত তথ্য পাঠাতে পারে। Silicon photonics সেই তৃতীয় প্রশ্নের একটি সম্ভাবনাময় উত্তর। সেই কারণেই আলো দিয়ে ডেটা পরিবহনের এই প্রযুক্তি আগামী দিনের এআই অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali