The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এআই এবার পদার্থবিজ্ঞানও বুঝবে?

এমআইটির নতুন প্রযুক্তিতে গাড়ি-জাহাজ পরীক্ষার সম্ভাবনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখা, ছবি, ভিডিও কিংবা কম্পিউটার কোড তৈরি করা এখন আর নতুন বিষয় নয়। কিন্তু বাস্তব জগতের কোনো বস্তু কীভাবে বাতাস, পানি, চাপ বা অন্য কোনো শক্তির প্রভাবে আচরণ করবে- এটি এআই-এর জন্য অনেক বেশি কঠিন।

এআই এবার পদার্থবিজ্ঞানও বুঝবে? 1

এবার এমআইটি-এর গবেষকরা এমন একটি নতুন এআই পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন, যা বাস্তব জগতের পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়মকে এআই মডেলের মধ্যে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

MIT Computer Science and Artificial Intelligence Laboratory-এর গবেষকরা GeoPT নামে একটি মডেল তৈরি করেছেন। ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, GeoPT AI মডেলকে বস্তু কীভাবে বাস্তব পরিবেশে আচরণ করে, তা আরও কার্যকরভাবে অনুকরণ বা simulate করতে সাহায্য করতে পারে।

বর্তমান এআই মডেলের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো—তারা ছবি বা ভাষার pattern খুব ভালোভাবে বুঝতে পারলেও বাস্তব পৃথিবীর physics সম্পর্কে মানুষের মতো স্বাভাবিক ধারণা রাখে না। একটি গাড়ি দেখতে কেমন, এআই তা বুঝতে পারে; কিন্তু বাতাসের চাপ, পানির প্রতিরোধ বা গতির পরিবর্তনের কারণে গাড়িটির আচরণ কীভাবে বদলাবে, তা নির্ভুলভাবে অনুমান করা অনেক বেশি কঠিন।

GeoPT-এর লক্ষ্য এই জায়গাতেই পরিবর্তন আনা। গবেষকেরা এমন এআই তৈরি করতে চাইছেন, যা বিভিন্ন বস্তু ও পরিবেশের interaction আরও বাস্তবসম্মতভাবে অনুমান করতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে গাড়ি, বিমান, নৌযান বা অন্যান্য যন্ত্রের নকশা তৈরির সময় physical prototype বারবার তৈরি করার প্রয়োজন কমতে পারে।

ধরা যাক, একটি গাড়ির নতুন design তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত engineering প্রক্রিয়ায় সেটির aerodynamic performance পরীক্ষা করতে computer simulation এবং বাস্তব পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। একটি নতুন বিমান বা নৌযানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরীক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে। এআই যদি তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে এসব পরিস্থিতি simulate করতে পারে, তাহলে নকশা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়েই অনেক ভুল শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এর অর্থ হতে পারে সময় ও অর্থ- দুইয়েরই সাশ্রয়।

এই প্রযুক্তি robotics-এর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একটি robot যদি শুধু camera দিয়ে কোনো বস্তুর ছবি দেখে, তাহলে সে বস্তুটির অবস্থান বুঝতে পারবে। কিন্তু বস্তুটি কতটা ভারী, কোথায় চাপ দিলে সেটি পড়ে যাবে, পানির মধ্যে সেটি কীভাবে নড়বে কিংবা কোনো পৃষ্ঠে ঘর্ষণ কতটা- এসব বোঝার জন্য physics-এর ধারণা প্রয়োজন।

এমআইটি-এর গবেষণাটি তাই এআই-কে শুধু ‘দেখতে’ বা ‘লিখতে’ শেখানোর বদলে বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বোঝানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে এআই এখন মানুষের মতো পদার্থবিজ্ঞান বুঝে ফেলেছে। বাস্তব জগত অত্যন্ত জটিল। ছোট একটি ভুল অনুমানও বড় engineering failure তৈরি করতে পারে। তাই এমন AI model-কে বাস্তব ব্যবহারের আগে ব্যাপক পরীক্ষা এবং যাচাই প্রয়োজন।

তারপরও সম্ভাবনাটি বিশাল। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়তো একটি গাড়ি বা বিমানের প্রাথমিক নকশা এআই-কে দিয়ে তৈরি করিয়ে বিভিন্ন পরিবেশে সেটির আচরণ কয়েক মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা করতে পারবেন।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে গবেষণার গতি। আজ যেখানে কোনো নতুন design পরীক্ষা করতে সপ্তাহ বা মাস সময় লাগতে পারে, ভবিষ্যতে AI simulation সেই সময় অনেক কমিয়ে দিতে পারে।

এই কারণে এমআইটি-এর GeoPT প্রকল্পকে শুধু আরেকটি AI model হিসেবে দেখা যায় না। এটি এমন এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে এআই মানুষের ভাষা এবং ছবির পাশাপাশি বাস্তব পৃথিবীর নিয়মও আরও গভীরভাবে অনুকরণও করতে পারবে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali