দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিড়ালকে অনেকেই রহস্যময় প্রাণী হিসেবে দেখেন। কখনও একা একা ঘুরে বেড়ানো, কখনও নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের উপস্থিতির চিহ্ন রেখে যাওয়া- বিড়ালের আচরণ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।

এবার বিজ্ঞানীরা বিড়ালের এমন এক যোগাযোগব্যবস্থার সন্ধান পেয়েছেন, যা শুনতে অবাক লাগলেও তাদের সামাজিক আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে এমন রাসায়নিক সংকেত থাকতে পারে, যার মাধ্যমে একটি বিড়াল অন্য বিড়ালকে শনাক্তও করতে পারে। বিজ্ঞানীরা সেই রাসায়নিক ‘বার্তা’ বিশ্লেষণ করে বিড়ালের গন্ধভিত্তিক যোগাযোগ সম্পর্কে নতুন তথ্যও পেয়েছেন।
প্রাণীদের মধ্যে গন্ধের মাধ্যমে যোগাযোগ নতুন কিছু নয়। অনেক প্রাণীই গন্ধ ব্যবহার করে নিজের এলাকা চিহ্নিত করে, সঙ্গী শনাক্ত করে বা অন্য প্রাণীর উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেয়। তবে বিড়ালের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি কতটা জটিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।
নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ পরীক্ষা করেন। মানুষের কাছে এগুলোর বেশিরভাগই শুধু দুর্গন্ধ হিসেবে মনে হতে পারে। তবে বিড়ালের ঘ্রাণশক্তি মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। যে কারণে একই গন্ধের মধ্যে তারা এমন তথ্য শনাক্ত করতে পারে, যা মানুষের নাকের কাছে সম্পূর্ণই অদৃশ্য।
গবেষকদের মতে, প্রতিটি বিড়ালের গন্ধে এমন কিছু রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা তাকে অন্য বিড়ালের কাছ থেকে পৃথক করে। অর্থাৎ মানুষের আঙুলের ছাপ কিংবা মুখের মতো বিড়ালের গন্ধও এক ধরনের রাসায়নিক পরিচয় বহন করতে পারে।
এই আবিষ্কারের ফলে বিড়ালের সামাজিক আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেক সময় একটি বিড়াল অন্য বিড়ালের সঙ্গে সরাসরি দেখা না করেও কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অন্য একটি বিড়ালের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে। গন্ধের চিহ্ন তাকে জানাতে পারে- এখানে আগে কে ছিল, সে একই এলাকার প্রাণী কি না ও ওই জায়গায় অন্য বিড়ালের উপস্থিতি রয়েছে কি না।
এখানে ‘প্রস্রাব’ শব্দটি শুনে বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও প্রাণীবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব রয়েছে অনেক। কারণ প্রাণীদের যোগাযোগ সবসময় শব্দ কিংবা দৃশ্যমান সংকেতের মাধ্যমে হয় না। গন্ধ, রাসায়নিক পদার্থ, শারীরিক ভঙ্গি এবং স্পর্শও তাদের সামাজিক যোগাযোগের অংশ।
গবেষণাটি ভবিষ্যতে গৃহপালিত বিড়ালের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রেও কাজে আসতে পারে। একটি বিড়াল কেন অন্য বিড়ালকে ভয় পায়, কেন নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের গন্ধ রেখে যায় কিংবা কেন কোনো এলাকায় অন্য বিড়ালের উপস্থিতিতে অস্বস্তি প্রকাশ করে- এইসব আচরণের পেছনে রাসায়নিক যোগাযোগের ভূমিকা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিড়ালের প্রস্রাবের প্রতিটি গন্ধের একটি নির্দিষ্ট ‘বাক্য’ রয়েছে। বরং বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেতের সমন্বয় থেকে প্রাণীটি পরিবেশ এবং অন্য প্রাণী সম্পর্কে তথ্য পেতে পারে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মানুষ যেখানে কোনো গন্ধকে শুধু দুর্গন্ধ হিসেবে অনুভব করে, বিড়ালের কাছে সেটিই হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার। একটি সাধারণ গন্ধের মধ্যে পরিচয়, উপস্থিতি এবং সামাজিক অবস্থানের মতো তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে- বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা সেই অদৃশ্য জগতের দরজা খুলে দিয়েছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org