দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বাথরুম কিংবা রান্নাঘরের বেসিনে মরচের দাগ পড়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। বিশেষ করে ধাতব অংশে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকা, আর্দ্র পরিবেশ, পানিতে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ কিংবা ধাতব পৃষ্ঠের ক্ষয় থেকে বাদামি বা কমলা রঙের দাগ তৈরি হতে পারে।

দেখতে অস্বস্তিকর হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে দাগ আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে। তবে মরচে পরিষ্কার করতে গিয়ে ভুল রাসায়নিক কিংবা অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে বেসিনের পৃষ্ঠ নষ্টও হতে পারে। স্টেইনলেস স্টিলের বেসিনে বিশেষ করে স্টিল উল কিংবা অত্যন্ত ঘষে পরিষ্কার করার উপকরণ ব্যবহার না করাই ভালো।
প্রথমে বেসিনটি পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর মরচের জায়গায় বেকিং সোডার হালকা পেস্ট ব্যবহার করা যেতেই পারে। বেকিং সোডার সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে মরচের দাগের ওপর লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর নরম স্পঞ্জ কিংবা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করুন। স্টেইনলেস স্টিল হলে সবসময় ধাতুর স্বাভাবিক দানার কিংবা grain-এর দিক অনুসরণ করে পরিষ্কার করা ভালো।
মরচে যদি তুলনামূলক হালকা হয়, তাহলে মৃদু পরিষ্কারক ব্যবহার করে তা উঠে যেতে পারে। তবে দাগ শক্ত হলে স্টেইনলেস স্টিলের জন্য তৈরি কোনো উপযুক্ত বাণিজ্যিক ক্লিনার ব্যবহার করা যায়। পণ্যের লেবেলে সেটি ওই ধরনের বেসিনের জন্য নিরাপদ কি-না অবশ্যই দেখে নিতে হবে। সব ধরনের ধাতু কিংবা বেসিনের পৃষ্ঠে একই ক্লিনার ব্যবহার করা মোটেও ঠিক নয়।
অনেকেই মরচে দূর করতে খুব শক্ত ব্রাশ, ছুরি কিংবা ধাতব ঘষনি ব্যবহার করেন। এটি সাময়িকভাবে দাগ তুললেও বেসিনের ওপর সূক্ষ্ম আঁচড় বা দাগ তৈরি করতে পারে। পরে ওই আঁচড়ে ময়লা জমা কিংবা ক্ষয় হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে। তাই নরম স্পঞ্জ কিংবা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা নিরাপদ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ব্লিচ কিংবা শক্তিশালী রাসায়নিকের ব্যবহার। বিশেষ করে স্টেইনলেস স্টিলের ক্ষেত্রে ভুল রাসায়নিক পৃষ্ঠের ক্ষতিও করতে পারে। তাই লেবেল না দেখে কোনো শক্তিশালী রাসায়নিক প্রয়োগ করা মোটেও উচিত নয়। একইভাবে একাধিক রাসায়নিক একসঙ্গে মেশানো বিপজ্জনকও হতে পারে।
মরচে পরিষ্কার করার পর বেসিনটি ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ও শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন। নিয়মিত ব্যবহারের পর বেসিন শুকনো রাখার অভ্যাস করলে পানির দাগ, খনিজ জমা এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি কমানো যাবে। প্রতিদিন হালকা পরিষ্কার ও প্রয়োজন অনুযায়ী সপ্তাহে একবার গভীরভাবে পরিষ্কার করাও বেসিনের পৃষ্ঠ ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
তবে যদি দেখা যায় যে, মরচে শুধু ওপরের দাগ নয়, বরং বেসিনের ধাতু ক্ষয়ে গিয়ে গর্ত কিংবা গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, তাহলে শুধু ঘরোয়া পরিষ্কারক দিয়ে সমস্যার সমাধান তখন নাও হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বেসিনের পৃষ্ঠ মেরামত কিংবা প্রয়োজন হলে পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হবে।
মরচে পড়লে প্রথমে মৃদু পরিষ্কার পদ্ধতি, নরম কাপড় কিংবা স্পঞ্জ ও উপযুক্ত ক্লিনার ব্যবহার করাই নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- বেসিনে পানি জমিয়ে না রাখা ও পরিষ্কারের পর ভালোভাবে শুকিয়ে রাখা। এতে ভবিষ্যতে মরচে এবং দাগ পড়ার প্রবণতাও অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org