The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

২৩ কোটি ৬০ লাখ বছর আগেই কী স্তন্যপায়ী প্রাণীর পূর্বপুরুষ সন্তান জন্ম দিতো?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্তন্যপায়ী প্রাণী বলতে আমরা সাধারণত এমন প্রাণীকেই বুঝি যারা ডিম পাড়ার পরিবর্তে সন্তান জন্ম দেয়।

২৩ কোটি ৬০ লাখ বছর আগেই কী স্তন্যপায়ী প্রাণীর পূর্বপুরুষ সন্তান জন্ম দিতো? 1

তবে পৃথিবীর ইতিহাসে কখন থেকে এই বৈশিষ্ট্যের সূচনা হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। এবার আর্জেন্টিনায় পাওয়া ২৩ কোটি ৬০ লাখ বছরের পুরোনো একটি জীবাশ্ম সেই প্রশ্নের উত্তরকে আরও পেছনে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

গবেষকরা যে জীবাশ্মটি পরীক্ষা করেছেন, সেটি ‘সাইনোডন্ট’ গোত্রের একটি প্রাণীর। সাইনোডন্টরা আধুনিক স্তন্যপায়ীদের বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি গোষ্ঠী। জীবাশ্মটির হাড়ে বিজ্ঞানীরা একটি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির চিহ্ন শনাক্ত করেছেন। এই চিহ্ন হতে প্রাণীটির জন্মের সময়কার শারীরিক বিকাশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

কেনো একটি ছোট্ট হাড়ের চিহ্ন এতো গুরুত্বপূর্ণ?

এর কারণ হলো, প্রাণীর ভ্রূণ মায়ের শরীরের ভেতরে কতটা সময় ধরে বিকশিত হয়েছে, তার সঙ্গে জন্মের সময় শরীরের আকারের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জীবাশ্মে পাওয়া বৃদ্ধির বৈশিষ্ট্যটি এমন একটি প্রাণীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, যার ভ্রূণ মায়ের শরীরের ভেতরেই যথেষ্ট সময় ধরে বিকশিত হয়েছিল। যদি এই ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তাহলে প্রাণীটি ডিম পাড়ার পরিবর্তে জীবন্ত সন্তান জন্ম দিয়ে থাকতে পারে।

এখানেই আবিষ্কারটির বিস্ময়। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিবর্তনীয় ধারায় জীবন্ত সন্তান জন্ম দেওয়ার বৈশিষ্ট্য প্রচলিত ধারণার তুলনায় প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯ কোটি বছর আগেই শুরু হয়ে থাকতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এটিকে এখনই চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না। কারণ একটি মাত্র জীবাশ্মের ওপর ভিত্তি করে এতো বড় বিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

তবুও এর গুরুত্ব অনেক। কারণ স্তন্যপায়ীদের বিবর্তন ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ এবং জটিল একটি প্রক্রিয়া। আধুনিক স্তন্যপায়ীদের মধ্যে সন্তান জন্ম দেওয়া, সন্তানকে দুধ খাওয়ানো, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ ধরনের কঙ্কাল- এসব বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে তৈরি হয়নি। বরং কোটি কোটি বছর ধরে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে।

জীবন্ত সন্তান জন্ম দেওয়ার সুবিধা হলো, ভ্রূণ মায়ের শরীরের ভেতরে থাকায় বাইরের পরিবেশের কিছু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে এর জন্য মায়ের শরীরে অতিরিক্ত শক্তি এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। ফলে এই পদ্ধতির বিবর্তন কখন শুরু হয়েছিল, সেটি প্রাণীজগতের ইতিহাস বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন গবেষণাটি তাই শুধু একটি প্রাণীর প্রজনন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না; এটি স্তন্যপায়ীদের বিবর্তনের সময়রেখা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে- কোটি কোটি বছর পুরোনো একটি ছোট হাড়ও কখনও কখনও পৃথিবীর জীবনের ইতিহাস সম্পর্কে বিশাল কোনো রহস্যের দরজা খুলে দিতে পারে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও জীবাশ্ম, তুলনামূলক গবেষণা এবং স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন। আপাতত গবেষকদের হাতে থাকা তথ্য একটি চমকপ্রদ সম্ভাবনার কথা বলছে- সম্ভবত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে জীবন্ত সন্তান জন্ম দেওয়ার ইতিহাস আমরা যতোটা পুরোনো ভাবতাম, তার চেয়েও অনেক বেশিই পুরোনো।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

Loading...
bn_BDBengali