দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ হাইহিল জুতা অনেক নারীর পোশাক এবং ব্যক্তিত্বের অংশ। বিশেষ অনুষ্ঠান, অফিস, পার্টি কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখাতে অনেকেই নিয়মিত হাইহিল ব্যবহার করেন।

হাইহিল পরলে উচ্চতা বাড়ে ও হাঁটার ধরনেও পরিবর্তন আসে। তবে দীর্ঘ সময় কিংবা নিয়মিত হাইহিল ব্যবহার করলে পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে উঁচু হিল এবং সরু সামনের অংশের জুতা পায়ের স্বাভাবিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
হাইহিল পরলে শরীরের ওজনের স্বাভাবিক বণ্টন বদলে যায়। পায়ের গোড়ালির পরিবর্তে শরীরের ওজনের বড় অংশ সামনের দিকে চলে আসে। যে কারণে পায়ের আঙুল এবং সামনের অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় থাকলে পায়ের ব্যথা, জ্বালা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। NHS-ও পায়ের ব্যথার ক্ষেত্রে হাইহিল এবং সরু, আঁটসাঁট জুতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।
হাইহিলের আরেকটি সমস্যা হলো ভারসাম্য। হিল যতো উঁচু হয়, হাঁটার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা ততো কঠিন হতে পারে। অসমান রাস্তা, সিঁড়ি কিংবা ভেজা মেঝেতে পড়ে গিয়ে গোড়ালি মচকে যাওয়া বা পায়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
দীর্ঘদিন হাইহিল ব্যবহারে পায়ের আঙুলের ওপর চাপ পড়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের বিকৃতি কিংবা ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সামনের অংশ সরু হলে আঙুলগুলো স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে থাকতে পারে না। যে কারণে ফোসকা, শক্ত চামড়া, কর্ন কিংবা আঙুলে ব্যথার মতো সমস্যাও হতে পারে।
শুধু পা নয়, হাইহিলের প্রভাব গোড়ালি এবং পায়ের পেছনের পেশিতেও পড়তে পারে। উঁচু হিলে দীর্ঘ সময় হাঁটার কারণে অ্যাকিলিস টেনডন এবং পায়ের পেশিগুলো একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকতে বাধ্য হয়। নিয়মিত এমন অবস্থায় থাকলে অস্বস্তি কিংবা শক্তভাব তৈরি হতে পারে।
হাইহিলের কারণে হাঁটার ভঙ্গি পরিবর্তিত হওয়ায় হাঁটু এবং কোমরের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে হাইহিল পরলেই প্রত্যেক নারীর কোমর কিংবা হাঁটুর রোগ হবে- এমন কথা বলা ঠিক নয়। ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে হিলের উচ্চতা, কতক্ষণ পরা হচ্ছে, কত ঘন ঘন পরা হচ্ছে, জুতার গঠন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।
তাই হাইহিল পুরোপুরি বাদ দিতে হবে- এমন নয়। বিশেষ অনুষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য তুলনামূলক কম উঁচু এবং আরামদায়ক হিল ব্যবহার করা যেতে পারে। জুতার সামনের অংশ খুব সরু না হওয়া, পা ঠিকমতো ধরে রাখা ও পর্যাপ্ত জায়গা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় হাঁটা কিংবা দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষেত্রে আরামদায়ক, নিচু হিলের জুতা বেশি উপযোগী।
পায়ে নিয়মিত ব্যথা, অসাড়তা, ফোলা কিংবা হাঁটতে সমস্যা হলে শুধু জুতা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে আঘাতের পর তীব্র ব্যথা হলে দ্রুতই চিকিৎসার প্রয়োজন।
সুতরাং হাইহিল সৌন্দর্য এবং ফ্যাশনের অংশ হলেও এর ব্যবহার হওয়া উচিত পরিমিতভাবে। দীর্ঘ সময় এবং নিয়মিত উচ্চ হিল পরার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করলে পায়ের স্বাস্থ্যের ওপর চাপ কমানোও সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org