দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান সময়ে নারীরা ঘর ও বাইরের দায়িত্ব সমানভাবে সামলাচ্ছেন। অফিস, ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন পেশায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজ ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

তবে কর্মজীবনের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত যত্ন- সবকিছু একসঙ্গে সামলানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কর্মরত মহিলাদের জন্য কিছু কার্যকর টিপস অনুসরণ করলে জীবন আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হতে পারে।
সময় ব্যবস্থাপনা
সময় ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিনের কাজ আগে থেকেই পরিকল্পনা করলে চাপ অনেক কমে যায়। একটি টু-ডু লিস্ট তৈরি করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ সাজিয়ে নেওয়া ভালো। অফিস ও পরিবারের কাজ আলাদা করে ভাগ করলে মানসিক চাপ কম থাকে। অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া
নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেক কর্মজীবী নারী কাজের চাপে খাবার ও বিশ্রাম অবহেলা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ক্ষতি করে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অন্তত ৬–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস শরীর ও মন ভালো রাখে।
মানসিক সুস্থতা
মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেস কাজের দক্ষতা কমিয়ে দেয়। তাই সময় পেলে নিজের পছন্দের কাজ- যেমন বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো- মনের প্রশান্তি এনে দেয়। প্রয়োজনে সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজের সমস্যার কথা শেয়ার করলে মানসিক ভার কমে।
আত্মবিশ্বাসী ও পেশাদার মনোভাব
কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী ও পেশাদার মনোভাব বজায় রাখা দরকার। নিজের দক্ষতা বাড়াতে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা উচিত। প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ বা অনলাইন কোর্সে অংশ নিলে ক্যারিয়ারে উন্নতির সুযোগ বাড়ে। নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শেখাও গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। সব কাজ একা করার চেষ্টা না করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নেওয়া উচিত। দায়িত্ব ভাগ করে নিলে চাপ কমে এবং সম্পর্কও ভালো থাকে।
নিজের জন্য কিছু সময় রাখা প্রয়োজন। আত্মযত্ন ও আত্মসম্মান একজন নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। মনে রাখতে হবে, সুস্থ ও সুখী থাকলেই একজন কর্মজীবী নারী সফলভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সঠিক পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ইতিবাচক মনোভাব- এই ৩টি বিষয় অনুসরণ করলে কর্মরত মহিলাদের জীবন হবে আরও সুন্দর ও সাফল্যময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org