The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কাঁচা মরিচ কী স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কাঁচা মরিচ বাঙালির খাবারের অন্যতম পরিচিত উপকরণ। ডাল, ভর্তা, তরকারি, ভাজি বা সালাদের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

কাঁচা মরিচ কী স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী? 1

ঝাল স্বাদের কারণে অনেকের কাছে এটি খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি কাঁচা মরিচে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। পরিমিত পরিমাণে কাঁচা মরিচ স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

কাঁচা মরিচে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম, কোলাজেন তৈরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কাজে ভিটামিন সি প্রয়োজন। এ ছাড়াও কাঁচা মরিচে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

কাঁচা মরিচের ঝাল স্বাদের অন্যতম কারণ হলো ক্যাপসাইসিন নামের একটি যৌগ। ক্যাপসাইসিন নিয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। এটি ঝাল অনুভূতি তৈরি করে ও শরীরের কিছু স্নায়বিক এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কাঁচা মরিচ খেলেই ওজন দ্রুত কমে যাবে বা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি গলে যাবে-এমন দাবি করা ঠিক নয়।

কাঁচা মরিচে কিছু ভিটামিন এবং খনিজও থাকে। তবে শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য শুধু মরিচের ওপর নির্ভর করা যাবে না। বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, ডিম, দুধ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সমন্বিত খাদ্যাভ্যাস প্রয়োজন।

কাঁচা মরিচ খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ। অতিরিক্ত ঝাল খাবার অনেকের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা, অম্লতা, পেটে অস্বস্তি কিংবা হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে। যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স কিংবা ঝাল খাবারে অস্বস্তির প্রবণতা রয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

কাঁচা মরিচ পরিষ্কার করে খাওয়াও জরুরি। বাজার থেকে আনা মরিচ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। কাঁচা অবস্থায় খাওয়ার আগে পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর না দিলে ময়লা কিংবা জীবাণুর কারণে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কাঁচা মরিচের আরেকটি সুবিধা হলো এটি অল্প পরিমাণে খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবণ কিংবা চর্বিযুক্ত উপাদান ব্যবহার না করেও খাবারে স্বাদ আনা সম্ভব। তবে মরিচের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করলে খাবারটি স্বাস্থ্যকর থাকবে না।

সুতরাং কাঁচা মরিচকে স্বাস্থ্যকর খাবারের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই যায়। এতে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ঝাল খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমিত কাঁচা মরিচ খাওয়াই সবথেকে ভালো।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali